আল্লাহ যখন বান্দার সব অভাব-অভিযোগ দূর করে দেন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-০৯, | ২০:১০:৫৭ |
আপনার রিজিক আগেই নির্ধারিত; যা আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই, তা নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা ছেড়ে দেওয়ার এটাই সময়। আয়, সঙ্গী, সফলতা আর প্রশান্তি সবই ধীরে ধীরে আপনার দিকেই এগিয়ে আসছে। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন, কারণ আল্লাহ কখনই একজন ইমানদারকে শূন্য হাতে ফেরান না। মানুষের সফলতায় আল্লাহর ইচ্ছায় ও কুরআনের দিকনির্দেশনায় বান্দার সব অভাব-অভিযোগ দূর হয়ে যাওয়ার চমৎকার একটি ঘটনা হজরত ওমরের (রা.) কণ্ঠে ওঠে এসেছে— 


এক ব্যক্তি হজরত ওমর (রা.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘আল্লাহ আপনাকে যে দায়িত্ব ও ক্ষমতা দিয়েছেন, সেখান থেকে আমাকে কোনো একটি পদের দায়িত্ব (চাকরি) দিন।’

হজরত ওমর (রা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি কি কুরআন পড়তে পারো?’ সে উত্তর দিল— ‘না।’ হজরত ওমর (রা.) বললেন, ‘যে কুরআন পড়তে জানে না, আমরা তাকে কোনো দায়িত্ব দিই না।’ হজরত ওমর (রা.) চেয়েছিলেন মানুষ আগে দ্বীন শিখুক, কারণ দ্বীনের জ্ঞান থাকলে সে আমানতদারিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

লোকটি সেখান থেকে ফিরে গেল এবং এই আশায় কঠোর পরিশ্রম করে কুরআন শিখতে শুরু করল যে, কুরআন শেখা শেষ হলে সে আবার ওমর (রা.)-এর কাছে যাবে এবং একটি চাকরি পাবে।

কিন্তু যখন সে কুরআন শিখে ফেলল, তখন সে ওমরের (রা.) কাছে যাওয়া বন্ধ করে দিল। একদিন হঠাৎ তার সঙ্গে হজরত ওমর (রা.)-এর দেখা হলো। তিনি তাকে দেখে বললেন, ‘তুমি কি আমাদের ছেড়ে দিলে (আমাদের কাছে আসা বন্ধ করে দিলে)?’


সে উত্তর দিল, ‘হে আমিরুল মুমিনিন! আমি আপনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো লোক নই; কিন্তু আমি কুরআন শিখেছি আর এই কুরআনই আমাকে ওমর এবং ওমরের দরজার মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত করে দিয়েছে (অর্থাৎ আল্লাহ আমাকে স্বাবলম্বী করে দিয়েছেন)।’

হজরত ওমর (রা.) অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কুরআনের কোন আয়াতটি তোমাকে এতটা স্বাবলম্বী ও নিশ্চিন্ত করল?’

লোকটি উত্তর দিল, আল্লাহর এই বাণী—

وَ مَنۡ یَّتَّقِ اللّٰهَ یَجۡعَلۡ لَّهٗ مَخۡرَجًا وَّ یَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَحۡتَسِبُ ؕ وَ مَنۡ یَّتَوَكَّلۡ عَلَی اللّٰهِ فَهُوَ حَسۡبُهٗ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بَالِغُ اَمۡرِهٖ ؕ قَدۡ جَعَلَ اللّٰهُ لِكُلِّ شَیۡءٍ قَدۡرًا

‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে (তাকওয়া অবলম্বন করে), আল্লাহ তার জন্য (সংকট থেকে বের হওয়ার) পথ করে দেন। আর তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তার উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ (সুরা তালাক: আয়াত ২-৩)

কুরআন কেবল তেলাওয়াতের জন্য নয়, বরং এর প্রতিটি আয়াত মানুষের জীবন দর্শন বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।  মানুষ যখন প্রকৃত অর্থে আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং তাকে ভয় করে চলে, তখন আল্লাহ দুনিয়াবি সব অভাব অভিযোগ দূর করে দেন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...