যে ৩ আমলে কাছে আসতে পারে না শয়তান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-০৩, | ১৮:৫৭:৩৩ |
দুনিয়াবি জীবনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পরকালে সফল হতে মহান রবের হুকুম যেমন মেনে চলা জরুরি, তেমনি রাসুল (সা.) এর আদর্শ ও তাঁর দেখানো পথ অনুসরণও জরুরি। পবিত্র কুরআনে খোদ মহান আল্লাহ তা’য়ালা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হে নবী আপনি তাদের বলে দিন- যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ৩১)।

তবে ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে বরাবরই শয়তান মুমিনকে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করে। এজন্য বিভিন্ন হাদিসে শয়তানের অনিষ্ট থেকে মহান রবের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার কথাও এসেছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের কারও কাছে শয়তান আসতে পারে এবং সে বলতে পারে, এই বস্তু কে সৃষ্টি করেছেন? ওই বস্তু কে সৃষ্টি করেছেন? এমন প্রশ্ন করতে করতে শেষ পর্যন্ত সে বলে বসবে, তোমার প্রতিপালককে কে সৃষ্টি করেছে? যখন বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাবে, তখন সে যেন অবশ্যই আল্লাহর কাছে পানাহ চায় এবং বিরত হয়ে যায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০৪৬)

এজন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও উত্তম আলম করার পাশাপাশি মুমিনের উচিত প্রতিনিয়ত শয়তানের অনিষ্ট থেকে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া। নিচে তিনটি আমলের কথা তুলে ধরা হলো, যার মাধ্যমে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় মিলবে।

ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা

উসমান ইব্‌ন হায়সাম (রহ.) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, একবার রাসুল (সা.) আমাকে রমজানে প্রাপ্ত যাকাতের মাল হেফাজতের দায়িত্ব দিলেন। ওই সময় জনৈক ব্যক্তি এসে খাদ্য-দ্রব্য উঠিয়ে নিতে উদ্যত হলো। আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম, আমি তোমাকে আল্লাহর নবীর (সা.) কাছে নিয়ে যাব।


পরে পুরো হাদিস বর্ণনা করে তিনি বলেন, ওই সময় লোকটি বললো, যখন আপনি ঘুমাতে যাবেন, তখন আয়াতুল কুরসি পাঠ করবেন। এর ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন পাহারাদার নিযুক্ত করা হবে এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান আপনার কাছে আসতে পারবে না। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এ ঘটনা শুনে) বললেন, (যে তোমার কাছে এসেছিল) সে সত্য কথা বলেছে, যদিও সে বড় মিথ্যাবাদী শয়তান। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৬৪৬)।

সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াত তিলাওয়াত

নু’মান ইবনু বাশীর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- আসমান ও জমিন সৃষ্টি করার দুই হাজার বছর আগে আল্লাহ তা’য়ালা একটি কিতাব লিখেছেন। এই কিতাব থেকে পরবর্তীতে দু’টি আয়াত নাযিল করেছেন, যা দ্বারা সুরা আল বাকারাহ শেষ করেছেন। কোনো ঘরে তা তিন রাত পড়া হবে, অথচ এরপরও ওই ঘরের কাছে শয়তান যাবে, এমনটা হতে পারে না। (মেশকাত, হাদিস: ২১৪৫, সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ২৮৮২)

শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চেয়ে দোয়া করা

খাওলা বিনতে হাকীম শামিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- কেউ যদি কোনো মানযিলে অবতরণের পর নিচের দোয়াটি পড়ে তবে পুনরায় যাত্রা না করা পর্যন্ত তাকে কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না। দোয়াটি হলো-

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

বাংলা: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খলাক।

অর্থ: আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের ওয়াসিলায়, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্টসমূহ থেকে (আল্লাহর কাছে) পানাহ চাই। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৩৭)

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...