নিরাপত্তার হালচাল : শঙ্কা জড়ানো অ্যাপ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-০২, | ১৮:৫৬:০১ |
কতটুকু নিরাপদ হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ– এমন প্রশ্নে মামলা করা হয়েছে মেটা প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে। কয়েকটি দেশের গ্রাহকের সম্মিলিত গ্রুপ এমন অভিযোগ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোর ফেডারেল আদালতে এ নিয়ে মামলা করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, শুধু প্রেরক ও প্রাপকই মেসেজ পড়তে পারেন। বাস্তবে তা পুরোপুরি সত্য নাও হতে পারে– এমন প্রশ্ন নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই অ্যাপের মধ্যেই গ্রাহককে অবহিত করা হয়, যারা হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করছেন, তারা ছাড়া আর কেউ টেক্সট মেসেজ পড়তে বা অডিও মেসেজ শুনতে পারবেন না। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই বলা হয় এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন। ডিফল্টভাবেই এটি সক্রিয় থাকে বলে মেটার পক্ষ থেকে শুরু থেকে দাবি করা হচ্ছে।

কিন্তু যারা মামলা করেছেন, তাদের অভিযোগ, মেটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রাহকের কথোপকথন সংরক্ষণ করে, বিশ্লেষণ করে আর প্রয়োজনে সেসব আলাপচারিতায় অনুপ্রবেশ করে। মামলায় দাবি করা হয়, সংস্থার নির্দিষ্ট কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে এসব মেসেজে প্রবেশাধিকার নিতে পারেন। মামলায় ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর এই অ্যাপ গ্রাহকরা যুক্ত হয়েছেন। অভিযোগে হুইসেলব্লোয়িংয়ের কথা বলা হয়েছে, যদিও গ্রাহকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, মেটা কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ সমূলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন বলেছেন, এই অ্যাপের মেসেজ এনক্রিপ্টেড নয়– এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুল, ভিত্তিহীন ও হাস্যকর। এক দশক ধরে সিগন্যাল প্রটোকল ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সিস্টেম সক্রিয় রয়েছে। তাই এ মামলার কারণ একেবারে ভিত্তিহীন। কিন্তু মেটা কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা এ মামলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে; প্রমাণ করবে– এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।

অ্যাপ থেকেই বহির্বিশ্বে কল সারাবিশ্বে ডেটা কল করার ক্ষেত্রে জনপ্রিয় মাধ্যম এখন হোয়াটসঅ্যাপ। অনেকে এখন এই অ্যাপের ডেটা কল ছাড়া যোগাযোগই করেন না।

এর ফলে অনেক সমস্যা বিদ্যমান। কারও ফোন নম্বর থাকলে আর সেই নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ ইনস্টল থাকলে তবেই এই অ্যাপ থেকে যোগাযোগ করা যায়। ঠিক এ কারণেই অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। সাইবার চক্র সব সময় অচেনা নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে, যা অস্বস্তি ও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অচেনা যে কারও কাছ থেকে এই অ্যাপ কল এড়ানোর বেশ কয়েকটি কৌশল রয়েছে। প্রাইভেসি সেটিংসে অপশন বদলে অচেনা নম্বর থেকে এ ধরনের অপরিচিত ফোন আসা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

কী সুবিধা রয়েছে

অচেনা নম্বর থেকে এই অ্যাপে কল আসা বন্ধ হলে বিরক্তি অনেকাংশে কমে যাবে। দুষ্টচক্রের প্রতারণা ঠেকানো বা স্প্যাম কল আসা এতে বাধাগ্রস্ত হবে। এই অ্যাপের কল হিস্ট্রিতে কল লগে নম্বর থেকে যায়। ফলে পরে কাজের প্রয়োজনে ওই নম্বর লিস্টে থেকে যায়। এতে পরিচিতজনের কাছ থেকেই শুধু ফোন আসবে। ফলে নিরাপত্তা বহু গুণ বেড়ে যাবে।

অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ

প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে যেতে হবে। ওপরে ডান দিকে তিনটি ডট চিহ্ন নির্বাচন করতে হবে। সেখানে সেটিংস নির্বাচন করতে হবে। এরপর প্রাইভেসি অপশনে যেতে হবে। সেখানে কল অপশনে গিয়ে সসাইলেন্স  আননোন কলারস অপশন চালু করতে হবে।

আইফোনে নিয়ন্ত্রণ

প্রথমে ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ আইকনে যেতে হবে। নিচে ডান দিকে সেটিংস নির্বাচন করতে হবে। প্রাইভেসি অপশন নির্বাচন করে কল অপশন বেছে নিতে হবে। সেখানে সাইলেন্স আননোন কলারস অপশন সুইচ অন করে নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে অনিবন্ধিত কেউ ফোন করলে তা মিস কল হয়ে রেকর্ড থাকবে; রিং বাজবে না। কিন্তু কল লগে সেই নম্বর থেকে যাবে। যদি অপরিচিত সেই নম্বরে আবার ফোন বা মেসেজ করেন, তাহলে ভবিষ্যতে সেই নম্বর আর সাইলেন্স করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে কল বা টেক্সট বন্ধ করতে চাইলে ব্লক করাই একমাত্র পথ। সংস্থাটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রাহককে বিভ্রান্ত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন কৌশলের কথা বলা হলেও এটি আসলে ভুল ধারণা। এর আগেও অনেকবার মেটা এ ধরনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে আমলেই নেয়নি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..