নামাজে ভিন্ন চিন্তা আসে? মনোযোগ ফিরিয়ে আনার ৫ উপায়

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-৩১, | ২৩:২৯:৪৮ |
৫ ওয়াক্ত নামাজ অন্যতম ফরজ ইবাদত। পবিত্র কুরআনে ৮২ বার নামাজের কথা এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমরা সালাত (নামাজ) পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করবে। অতঃপর যখন নিশ্চিন্ত হবে, তখন সালাত (পূর্বের নিয়মে) কায়েম করবে। নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ। (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)।


আবার হাদিসেও একাধিকবার নামাজ আদায়ের কথা এসেছে। সেই সঙ্গে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের ওপরও। খোদ মহান আল্লাহর কাছেও যথাসময়ে নামাজ আদায় করা অধিক প্রিয় একটি আমল। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২)

তবে দুনিয়াবি জীবনের ব্যস্ততা আর নানা চিন্তায় প্রায়সময়ই অনেকের নামাজে মনোযোগ থাকে না। এতে নামাজ কেবলমাত্র যান্ত্রিক একটি অভ্যাসে পরিণত হয়, এর দ্বারা অন্তরের প্রশান্তি আসে না। এ ক্ষেত্রে নামাজের আধ্যাত্মিক স্বাদ ও মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে নিচে উল্লেখিত উপায়গুলো অনুসরণ করতে পারেন।

অর্থ বুঝে তিলাওয়াত

নামাজে যেসব সুরা তিলাওয়াত করা হয়, এর অর্থ অনেকেই জানেন না। এ কারণে নিয়মিত অভ্যাসের মতো শুধু তিলাওয়াত করে যাওয়ার ফলে মন নামাজে স্থির হয় না। অর্থ বুঝে পড়া যেমন মনোযোগ নামাজের মধ্যে রাখতে সহায়তা করে, তেমনি এর ফলে অন্তরের প্রশান্তি অর্জিত হয়। এজন্য সুরা ফাতিহাসহ ছোট ছোট সুরাগুলোর অর্থ ভালো করে বুঝে নিতে পারেন।

পবিত্র কুরআনেও অর্থ বুঝে তিলাওয়াত ও সে অনুযায়ী আমল করার কথা এসেছে। মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি এক বরকতময় কিতাব, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করে’ (সুরা সোয়াদ, আয়াত: ২৯)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা রয়েছে?’ (সুরা মুহাম্মদ, আয়াত: ২৪)

মনকে স্থির করা বা একাগ্রতা

নামাজে মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে তাড়াহুড়ো না করে আগে থেকেই নামাজে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিন। দুনিয়াবি সব চিন্তা সরিয়ে মনকে স্থির করে নিন। খুশু বা একাগ্রতা এনে মনকে স্থির করে তবেই নামাজে দাঁড়ান।

মনে রাখতে হবে, খুশু বা একাগ্রচিত্তে নামাজ আদায় না করলে সওয়াবের পরিমাণও কমে যায়। আম্মার ইবনু ইয়াসির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি- এমন লোকও আছে (যারা সালাত আদায় করা সত্ত্বেও সালাতের রুকন ও শর্তগুলো সঠিকভাবে আদায় না করায় এবং সালাতে পরিপূর্ণ একাগ্রতা ও খুশুখুযু না থাকায় তারা সালাতের পরিপূর্ণ সাওয়াব পায় না), বরং তারা দশ ভাগের এক ভাগ, নয় ভাগের এক ভাগ, আট ভাগের এক ভাগ, সাত ভাগের এক ভাগ, ছয় ভাগের এক ভাগ, পাঁচ ভাগের এক ভাগ, চার ভাগের এক ভাগ, তিন ভাগের একভাগ বা অর্ধাংশ সাওয়াবপ্রাপ্ত হয়। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৭৯৬)

নামাজের উত্তম পরিবেশ

বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণে নামাজে মনোযোগ আসে না। তাই যথাসাধ্য নিরিবিলি জায়গায় নামাজ আদায়ের চেষ্টা করুন। এ ক্ষেত্রে ঘরে ছোট শিশু বা অন্য কাজের চাপ থাকলে পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নিতে পারেন, যাতে একাগ্রচিত্তে নামাজ আদায় করতে পারেন। তাই ঘরে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে নিরিবিলি একটি জায়গাকে বেছে নিন, যা নির্দিষ্টভাবে নামাজের জন্য ব্যবহার করবেন।

অপরাধবোধ থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে আশাবাদী থাকা

নামাজের ক্ষেত্রে অনেকেই এমন ভেবে থাকেন, যে হয়তো আমার নামাজে মনোযোগ বসছে না, তাই আমার ইবাদতও কবুল হচ্ছে না। এমন চিন্তা ধীরে ধীরে মানুষকে ইবাদত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই নামাজে দাঁড়ানোর আগে এমন চিন্তা আসলে অপরাধবোধ থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে মনকে শান্ত রাখুন। সেই সঙ্গে মহান রবের রহমতের বিষয়ে আশাবাদী থাকুন।

মনে রাখবেন, পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘আর কিছু লোক তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে, সৎকর্মের সঙ্গে তারা অসৎকর্মের মিশ্রণ ঘটিয়েছে। আশা করা যায়, আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা তওবা, আয়াত: ১০২)

অন্যদিকে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- মানুষ মাত্রই গুনাহগার (অপরাধী)। আর গুনাহগারদের মধ্যে তওবাকারীরাই উত্তম। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ২৪৯৯)

সব অস্থিরতাকে সামলে শক্তিতে পরিণত করুন

দুনিয়াবি জীবনের নানা চিন্তা আর অস্থিরতা সামলে নিতে নামাজে বিচলিত না হয়ে মনকে শান্ত রাখুন, তারপর নামাজ শেষে দোয়ায় দু’হাত তুলে পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু মহান আল্লাহর কাছে নিজের সব অসহায়ত্ব তুলে ধরুন। এমনটা করলে যেমন নামাজে মনযোগ আসবে, তেমনি মহান রবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। তাই জীবনের প্রতিটি সমস্যাকে নামাজের পর দোয়ার মাধ্যম বানিয়ে নিন।

মনে রাখবেন, মুমিনের আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া মোটেও উচিত নয়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেননা কাফির কওম (গোত্র বা জাতি) ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৭)


অন্যদিকে খোদ মহান রাব্বুল আলামিন হতাশ না হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সব পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’। (সুরা যুমার, আয়াত: ৫৩)

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..