শারীরিক প্রতিবন্ধী চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৫

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-২৪, | ২১:০৩:৫৪ |
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী অটোরিকশাচালক মো. সোহেল (৪১) হত্যাকাণ্ডের মাত্র চার দিনের মধ্যেই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুজনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাইকৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।

তিনি জানান, আর্থিক সংকটের কারণে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সোহেলকে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাই করা হয়। পরে সেটি চোরাই বাজারে বিক্রি করা হয়।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সোহেল। কিন্তু সেদিন আর তিনি ফিরে আসেননি। মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন ২০ জানুয়ারি সকালে স্থানীয়দের মুখে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় যান। সেখানে একটি রাস্তার পাশের ঢালে পড়ে থাকা মরদেহটি সোহেলের বলে শনাক্ত করেন তারা।

নিহতের ভাই মো. মহাসিন মিয়া বলেন, আমার ভাই শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিল। অটোরিকশা চালিয়েই সংসার চলত। ওর সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। শুধু অটোর জন্যই ওকে এভাবে মেরে ফেলেছে। মরদেহের নাক, মুখ ও দুই হাত স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা ছিল। কপাল ও পিঠের নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মো. সুজন মিয়া (৩৩) ও মো. শফিকুল ইসলাম হীরা (৩৯) স্বীকার করেছেন, টাকা-পয়সার অভাবে তারা সোহেলের অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন।

এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁও এলকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯ জানুয়ারি বিকেলে নানাখীবাজার থেকে আনন্দবাজার যাওয়ার কথা বলে সোহেলের অটোরিকশা ভাড়া নেন তারা। পথে একটি দোকান থেকে স্পিড পানীয় ও কাশির সিরাপ কিনে তা মিশিয়ে নেশাজাতীয় দ্রব্য তৈরি করা হয়। কৌশলে সেই পানীয় বেশি পরিমাণে সোহেলকে খাওয়ানো হয়।

সন্ধ্যার পর মুছারচরের দিকে যাওয়ার পথে নির্জন স্থানে সোহেল অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পেছনের সিটে বসানো হয়। পরে স্কচটেপ দিয়ে নাক-মুখ ও হাত বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যান তারা।

তদন্তে জানা যায়, হত্যার পর অটোরিকশাটি রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকায় একটি গ্যারেজে রাখা হয়। পরদিন সেটি বিক্রি করা হয়। এ ঘটনায় অটো কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন— মো. দুলাল মিয়া (৪৫), মো. আব্দুর রহিম মিয়া (৫৫), মো. আবুল কাশেম (৪০)।

পিবিআই জানায়, এই তিনজন দীর্ঘদিন ধরে চোরাই ও ছিনতাইকৃত অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত—এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) বলেন, নিহত ব্যক্তি শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে আজ ২৪ জানুয়ারি দুপুরে আদালতে হাজির করা হবে জানান এই কর্মকর্তা কর্তা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...