মিরপুরে জনসভায় জামায়াত আমির

সবার জন্য ইনসাফ, বেসরকারি ট্যাক্সের নামে চাঁদাবাজি আর চলবে না

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-২২, | ২১:০৭:০৫ |
মিরপুরসহ সারা দেশে চাঁদাবাজির সমালোচনা করে তা সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, ট্যাক্সের বাইরেও কিন্তু বেসরকারি একটা ট্যাক্স আছে। প্রত্যেকটা মুদির দোকানে, রাস্তাঘাটে, হকারের কাছে, এমনকি যে রাস্তার ধারে বসে, ভাইবোন ভিক্ষা করে তার কাছ থেকেও ট্যাক্স নেওয়া হয়। ওই ট্যাক্স নামের চাঁদাবাজি আর চলবে না। চাঁদা আমরা নেব না, চাঁদা দেব না। দুর্নীতি করব না, দুর্নীতি কাউকে করতে দেবো না। ইনসাফ সবার জন্য। টাকার মূল্যে ইনসাফ আর বিক্রি হবে না।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনি জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দুই হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে বলেন, ওই রকম কার্ডের কোনো ওয়াদা আমরা দিচ্ছি না।

২ হাজার টাকা দিয়ে একটা পরিবারের কোনো কিছু কি সমাধান হবে, এমন প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুই হাজারের কার্ডে আবার এক হাজারের ভাগ বসবে কি না— বলেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ। খাজনা আগে তারপর অন্যটা? দুই হাজারে এক হাজারের খাজনা আগে আমাকে দিয়ে দাও! এমন কাল্পনিক কিছু চরিত্র এঁকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, সরকারের হাতে যাবে, বেকারের হাতে নয়— এমন চিত্র কি আমরা দেখিনি?

তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বড় ভারী। এই প্রতীক ইনসাফের। আর সমাজের সব ধরনের বৈষম্য ও দুঃশাসনের কারণ ইনসাফ না থাকা। ইনসাফ যদি থাকত, তাহলে সমাজে দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও ব্যাংক ডাকাতরা নিরাপদে জনগণের সম্পত্তি লুটপাট করে দেশ থেকে পালানোর সুযোগ পেত না; দেশে দেশে বেগমপাড়া তৈরি করতে পারত না। বাংলাদেশের বুকে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে পারত না। কারণ এই কালো টাকা সন্ত্রাসের পেছনেও ব্যয় হয় আরও কালো টাকা বানানোর জন্য।

তিনি বলেন, আমি অনেকের মাথায় আজকে লাল টুপি দেখতে পাচ্ছি, যা গত সাড়ে ১৫ বছরে রক্তে লাল বাংলাদেশের করুণ চিত্র। সারা বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে ছোপ ছোপ রক্ত আর সারি সারি লাশের দেশে পরিণত হয়েছিল। বহু মা তাঁদের সন্তান হারিয়েছেন, বহু বোন তাঁর স্বামী হারিয়ে বিধবা হয়েছেন, বহু কচি শিশু তার বাবাকে হারিয়ে এতিম হয়েছে।

তিনি বলেন, ইতিহাসের কলঙ্ক রচনা করে বাংলাদেশের জায়গায়-জায়গায় আয়নাঘর গড়ে তোলা হয়েছিল। আয়নাঘরের মজলুমরাও এখানে আছেন। সেনা কর্মকর্তা হয়ে, উচ্চ আদালতের আইনজীবী হয়েও রক্ষা পাননি। রাজনৈতিক নেতারাও রক্ষা পাননি। বহু মা আজও তার সন্তানকে ফিরে পাননি।

তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এখানে উপস্থিত অন্তত ৪০ শতাংশ মানুষ বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। কেউ কেউ তো জীবনেও ভোট দিতে পারেননি। যারা ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল তারা ভোট ডাকাত। আপনারা কি নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চান?

মিরপুর এলাকার খণ্ডিত বর্ণনা তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, এই এলাকার তিনটি খাল এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পাশ দিয়ে গেলে মাথাব্যথা করবে, যে কেউ অসুস্থ হবেন। ড্রেনগুলো সব মশা-মাছির আস্তানা। রাস্তা ও লাইটপোস্ট দেখার কেউ নেই। ভাঙা রাস্তা তো আছেই; তার ওপর সন্ত্রাস ও মাদক এই এলাকাকে দীর্ঘদিন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আল্লাহর ইচ্ছায় এবং আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের ভোটে জামায়াতে ইসলামী যদি এখানে বিজয় লাভ করে, তবে কথা দিচ্ছি—আপনাদের সাথে নিয়ে এবং পাশে থেকে সব সমস্যার সমাধান আমরা করব।


শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...