আমরা না থাকলে আপনাদের জার্মান ভাষায় কথা বলতে হতো: ট্রাম্প

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-২২, | ১২:৩১:২২ |
সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে আবারও বিতর্কে জড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার তিনি বলেন, ‘আমরা না থাকলে এখন আপনারা সবাই জার্মান ভাষায় কথা বলতেন।’ এই মন্তব্য অনেক ইউরোপীয় নেতার কাছে অপমানজনক মনে হয়েছে। বিশেষ করে ব্রাসেলস, বার্লিন ও প্যারিসে এই বক্তব্য ভালোভাবে নেয়নি অনেকে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে আসে ইউরোপ ভুল পথে এগোচ্ছে। তিনি আগেও এমন কথা বলেছেন। তবে ইউরোপের মাটিতে বন্ধু ও মিত্রদের সামনে এমন কথা বলায় প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়েছে।

ডাভোসে অবশ্য এক জায়গায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে ইউরোপ। ট্রাম্প বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলে তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন না। তবে সমস্যা পুরো কাটেনি। কারণ ট্রাম্প এখনো গ্রিনল্যান্ড পেতে চান। অথচ ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড স্পষ্ট করে বলেছে, এই ভূখণ্ড বিক্রির জন্য নয়।

ফোরামের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ইউরোপের আটটি দেশের ওপর প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক আপাতত তুলে নিচ্ছেন। এই শুল্ক ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তিনি দাবি করেন, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক নিয়ে একটি ‘কাঠামো’ তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিকল্পনায় কীভাবে গ্রিনল্যান্ড পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের হবে, তা স্পষ্ট নয়।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, ‘এই বক্তব্যের পর এটা পরিষ্কার যে প্রেসিডেন্টের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখনো একই আছে।’ তিনি বলেন, সামরিক শক্তি ব্যবহার না করার কথা ‘আলাদা করে দেখলে ইতিবাচক’।

ডাভোস থেকে অনেক দূরে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক শহরে স্থানীয় সরকার একটি নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে সংকট দেখা দিলে নাগরিকদের কী করতে হবে, তা বলা আছে। মন্ত্রী পিটার বর্গ বলেন, ‘এটি একটি বীমা নীতির মতো।’ তিনি জানান, সরকার আশা করে এটি ব্যবহার করতে হবে না।

ট্রাম্প তার বক্তব্যে ইউরোপের দাবি উপেক্ষা করেন। ইউরোপ বলে, গ্রিনল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সার্বভৌম ভূখণ্ড। ট্রাম্প বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। পরে তা ফিরিয়ে দেওয়া ভুল ছিল। বাস্তবে গ্রিনল্যান্ড কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ছিল না।

তিনি আবারও ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যদের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ডেনমার্ককে নিয়ে তিনি বলেন, ১৯৪০ সালে দেশটি মাত্র ছয় ঘণ্টায় জার্মানির কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। তবে তিনি উল্লেখ করেননি যে ডেনমার্ক আফগানিস্তান ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। সেখানে ৪৪ জন ডেনিশ সেনা নিহত হন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকেও কটাক্ষ করেন ট্রাম্প। চোখের সমস্যার কারণে সানগ্লাস পরায় তাকে নিয়ে রসিকতা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ম্যাক্রোঁকে পছন্দ করি।’ এরপর যোগ করেন, ‘বিশ্বাস করা কঠিন, তাই না?’

ইউরোপীয় নেতাদের অনেকের কাছে এই রসিকতা এখন বিরক্তিকর। তারা দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পকে খুশি করার চেষ্টা করেছেন। তাতেও কাজ হয়নি। এর বদলে তারা নতুন চাপের মুখে পড়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠকে বসছেন। ট্রাম্প শুল্ক হুমকি থেকে সরে আসায় কিছুটা উত্তেজনা কমতে পারে। তবে ইউরোপ জানতে চায়, ন্যাটো প্রধানের সঙ্গে ট্রাম্প আসলে কী সমাধান ঠিক করেছেন।

দীর্ঘ বক্তব্যের শুরুতে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ‘মানুষ আমার ওপর খুব খুশি’। কিন্তু ইউরোপে এই অনুভূতি খুঁজে পাওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...