কলাপাড়ায় গোলগাছের রসে তৈরি হচ্ছে অন্যরকম স্বাদের গুড়

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-২১, | ১৭:৩৩:৩৮ |

শীতের সকালে শিশিরভেজা মেঠোপথ ধরে কলস ও বালতি হাতে গোলগাছের বাগানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন শ্যামল মৃধা। তার মতোই পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের অর্ধশতাধিক চাষি প্রতিদিন ভোর হলেই ছুটে যান গোলগাছের বাগানে রস সংগ্রহ করতে। একই সময়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন গ্রামের নারীরাও। কেউ রস সংগ্রহে যাচ্ছেন, কেউ বা রস ভর্তি কলস–বালতি নিয়ে ফিরছেন বাড়িতে।

সংগৃহীত রস বাড়ির উঠানে এনে পরিষ্কার কাপড়ে ছেঁকে ঢোঙ্গায় রাখা হয়। এরপর তাপালে খড়কুটো জ্বালিয়ে দীর্ঘ সময় জ্বাল দেওয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয় সুস্বাদু গুড়, যা স্থানীয়ভাবে ‘গোলের গুড়’ নামে পরিচিত।

স্থানীয়দের জানান, নাম গোলগাছ হলেও দেখতে অনেকটা নারিকেল গাছের পাতার মতো। নোনা পানিতে জন্ম নেওয়া এ গাছের প্রতিটি অংশেই রয়েছে লবণাক্ততার প্রভাব। অথচ গাছের ডগা থেকে বের হয় মিষ্টি রস। সেই রস দিয়েই তৈরি হয় ভিন্ন স্বাদের গুড়। কৃষিবিদদের মতে, গোলগাছ পাম গোত্রের একটি ম্যানগ্রোভ প্রজাতির উদ্ভিদ।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলায় অন্তত ৩০০ পরিবার গোলগাছের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির সঙ্গে জড়িত। বড় ধরনের কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই শীত মৌসুমে গোলের গুড় উৎপাদন করে প্রতিটি পরিবার অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করছে।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, উপজেলায় প্রায় ৬৫ হেক্টর জমিতে গোলগাছের বাগান রয়েছে। শীত মৌসুমে নীলগঞ্জ, মিঠাগঞ্জ ও চাকামইয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করে বাজারজাত করছেন। চলতি মৌসুমে এখান থেকে প্রায় ২০০ টন গোলের গুড় উৎপাদন হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।

চাষিরা জানান, গোলগাছের পরিচর্যায় তেমন কোনো খরচ নেই। গুড় ছাড়াও এ গাছের রস দিয়ে পিঠা ও পায়েস তৈরি করা হয়, যা বেশ মুখরোচক। এক সময় গোলের গুড় খুব একটা পরিচিত না হলেও এখন তা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন হাট-বাজারে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।

নবীপুর গ্রামের গৃহবধূ পুষ্প রানী জানান, বিয়ের পর থেকেই গোলের রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করছেন তিনি। আগে রস বেশি পাওয়া যেত, এখন বাগান কমে যাওয়ায় রসও কমে গেছে। একই গ্রামের সুনতি রানী জানান, প্রতিদিন সকালে আগুন জ্বালিয়ে রস থেকে গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেন তারা।

গোলগাছ চাষি বিমল মৃধা জানান, অগ্রহায়ণ মাস থেকে রস সংগ্রহ শুরু করেছেন। তার বাগান থেকে প্রতিদিন পাঁচ কলস রস পাওয়া যায়, যা থেকে প্রায় ১০ কেজি গুড় তৈরি হয়। 

আরেক চাষি পরিমল হাওলাদার বলেন, বর্গা নেওয়া বাগান থেকে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় কলস রস সংগ্রহ করে ১০ থেকে ১২ কেজি গুড় উৎপাদন করছি।
 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন বলেন, গোলগাছ উপকূলীয় অঞ্চলের একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গোলগাছের চাষ আরও সম্প্রসারণে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...