মাইনাস ১১০ ডিগ্রিতে সুস্থ থাকার টিপস শেয়ার করলেন আমিরাতের যুবরাজ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-২১, | ১২:০৫:০৮ |
দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম সম্প্রতি তার অভিনব ফিটনেস রিকভারি রুটিন নিয়ে আলোচনায় এসেছেন।

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সফরের পর তিনি যখন নিজের ফিটনেস ট্র্যাকার পরীক্ষা করেন, তখন দেখা যায় তার রিকভারি স্কোর মাত্র ৩১। অর্থাৎ শরীরের বিশ্রাম প্রয়োজন ছিল। তবে ক্যাফেইন বা দীর্ঘ ঘুমের পথ বেছে না নিয়ে তিনি শুরু করেন এক ভিন্নধর্মী ‘রিসেট প্রক্রিয়া’।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেখ হামদান জানান, ভ্রমণের পর শরীর খারাপ থাকলে তিনি আতঙ্কিত না হয়ে নিজেকে নতুন করে মানিয়ে নেন। তার এই রুটিনে রয়েছে তীব্র গরম ও ঠাণ্ডার মিশ্রণ।
প্রথমে ২০ মিনিট রেড লাইট থেরাপির মাধ্যমে শরীরকে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করা হয়। এরপর তিনি যান ‘আইসল্যাব’-এ, যেখানে মাইনাস ১১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তিন থেকে পাঁচ মিনিট থাকতে হয়।

এটি একটি পূর্ণদেহ ক্রায়োথেরাপি চেম্বার, যেখানে ধাপে ধাপে ঠাণ্ডা বাড়ানো হয়।

প্রথম কক্ষে তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ১০ ডিগ্রি, পরেরটিতে মাইনাস ৬০ ডিগ্রি এবং শেষ কক্ষে মাইনাস ১১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এতে শরীর ধীরে ধীরে ঠাণ্ডার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় এত কম তাপমাত্রাও তুলনামূলকভাবে সহনীয় মনে হয়।

এই সময় নিরাপত্তার জন্য বিশেষ পোশাক পরতে হয়-সাঁতারের পোশাক, গ্লাভস, মোজা ও জুতা, কান ঢাকার হেডব্যান্ড এবং মুখোশ। ভেতরে ধীরে হাঁটাহাঁটি করা যায় এক থেকে তিন মিনিট।

চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর শরীরে তীব্র অ্যাড্রেনালিনের স্রোত ও ঝিনঝিন অনুভূতি হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই এন্ডোরফিন নিঃসরণ শুরু হলে শরীর গভীর শিথিলতায় চলে যায়।
এরপর শেখ হামদান ৮০ থেকে ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রায় ২৬ মিনিট সময় কাটান।

তার মতে, প্রথম পাঁচ মিনিট শরীর গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেয়, এরপরই মূল থেরাপি শুরু হয়। সবশেষে পাঁচ মিনিটের জন্য ঠাণ্ডা পানির পুলে ডুব দেন তিনি, যা পুরো রিকভারি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের তাপমাত্রার চক্রাকার পরিবর্তন স্নায়ু, রক্তসঞ্চালন ও হরমোনের উপর শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। পেশাদার ক্রীড়াবিদরা পেশি ব্যথা কমানো ও দ্রুত সুস্থতার জন্য ক্রায়োথেরাপি ব্যবহার করে থাকেন। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এতে পুনরুদ্ধারের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তবে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া এই থেরাপি গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা রেনড’স সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি উপযুক্ত নয়।

শেখ হামদান নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কাজ ও ব্যক্তিগত জীবন ভাগ করে নেন। ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট তিনি ফিটনেস, ভ্রমণ ও জীবনযাপনের নানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যা তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। ফিটনেস ও সুস্থতা নিয়ে আগ্রহীদের জন্য তার এই রুটিন হতে পারে একটি অনন্য উদাহরণ, যদিও মাইনাস ১১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস সহ্য করার সাহস সবার নাও হতে পারে।

সূত্র: গালফ নিউজ

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...