ট্যাজো: চিপসের প্যাকেটে বন্দি এক সোনালী শৈশব

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-২০, | ২০:১১:২৩ |

সময়টা ২০০২ সাল। তখন আজকের মতো হাতে হাতে স্মার্টফোন ছিল না, ছিল না হাই-স্পিড ইন্টারনেট। সেই প্রজন্মের স্কুলগামী শিশুদের বিকেলগুলো কাটত পাড়ার মোড়ে বা স্কুলের বারান্দায় এক বিশেষ উন্মাদনায়। সেই উন্মাদনার নাম ছিল ‘ট্যাজো’। বিশেষ করে ‘ম্যারিডিয়ান’ (Meridian) চিপসের প্যাকেটে পাওয়া এই ছোট্ট কাগজের চাকতিগুলো তখন পরিণত হয়েছিল এক জাতীয় ক্রেজে।

চিপস নয়, লক্ষ্য ছিল ট্যাজো

সে সময় স্কুল ছুটির পর কিংবা টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে চিপস কেনার মূল উদ্দেশ্য চিপস খাওয়া ছিল না; বরং লক্ষ্য ছিল প্যাকেটের ভেতর লুকিয়ে থাকা সেই কাঙ্ক্ষিত ট্যাজোটি। ম্যারিডিয়ান চিপস কিনলেই মিলত একটি ট্যাজো। একেকটি ট্যাজোতে থাকত জনপ্রিয় সব কার্টুন চরিত্র যেমন— লুনি টিউনস, স্পেস জ্যাম কিংবা ডিজনি ক্যারেক্টার। কার সংগ্রহে কত বেশি এবং কত দুর্লভ ট্যাজো আছে, তা নিয়েই চলত বন্ধুদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই।

টিফিন পিরিয়ডের সেই প্রতিযোগিতা

তৎকালীন স্কুলগুলোর বারান্দায় টিফিন পিরিয়ড মানেই ছিল ট্যাজো খেলার আসর। মেঝেতে একটির ওপর একটি ট্যাজো সাজিয়ে হাতের অন্য একটি ট্যাজো দিয়ে আঘাত করে উল্টে দেওয়ার সেই কৌশলী খেলা। যার আঘতে যতগুলো ট্যাজো উল্টে যেত, সেগুলো হতো তারই। আবার অনেক সময় চলত অদল-বদল। নিজের কাছে একই রকম দুটি থাকলে বন্ধুর কাছ থেকে নতুন একটি সংগ্রহের জন্য চলত দীর্ঘ দরকষাকষি।

হারিয়ে যাওয়া এক স্মৃতি

আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই সময়কার কথা ভাবলে অবাক হতে হয়, কীভাবে সামান্য কিছু কাগজের চাকতি একটি পুরো প্রজন্মের শৈশবকে রঙিন করে তুলেছিল। প্রযুক্তির ভিড়ে আজ সেই কাগজের ট্যাজো আর চিপসের প্যাকেটে পাওয়া যায় না, কিন্তু রয়ে গেছে এক অমলিন স্মৃতি।

ম্যারিডিয়ান চিপসের সেই ঘ্রাণ আর প্যাকেটের কোণায় আঙুল ঢুকিয়ে ট্যাজো খোঁজার সেই শিহরণ আজও নব্বই দশকের মানুষদের মনে করিয়ে দেয়— জীবনটা কত সহজ আর সুন্দর ছিল।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..