নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনের সড়কে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদেই মূলত এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সামনে ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক নেতাকর্মী অবস্থান নিয়েছেন। ইসির দেওয়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে রাস্তায় বসে বিভিন্ন স্লোগান ও বক্তব্য দিচ্ছেন তারা। এ সময় তারা ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’ স্লোগান দিতে থাকে।
বেলা ১১টা থেকেই মহানগরের বিভিন্ন ইউনিট থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। নেতাকর্মীদের স্লোগানে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেলা সোয়া ১১টায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।
আগের দিন রবিবার রাতে কর্মসূচি শেষ করার আগে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ঘোষণা দিয়েছিলেন, একই ইস্যুতে আজও তাঁরা ইসির প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করবেন।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মতো ইসি ঘেরাও কর্মসূচি শুরু করেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা।
কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগঠনটির কমিটির কয়েক হাজার নেতা–কর্মী অংশ নিচ্ছেন।
ছাত্রদলের তিনটি ইস্যু হচ্ছে—
১. পোস্টাল ব্যালট–সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচনপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।
সরেজমিন দেখা যায়, ইসির প্রধান ফটকের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছেন। ব্যারিকেডের সামনের সড়ক আটকে অবস্থান নিয়েছেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। তাঁরা দাবির পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন। আর ছাত্রদলের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন।
কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
রবিবার প্রায় ৯ ঘণ্টা ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ইসির সামনে অবস্থান করেন। একপর্যায়ে বিকেল ৫টার দিকে ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইসির সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে তারা কমিশনের কাছে তিন ইস্যু নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরে।
ছাত্রদলের নেতারা বলছেন, ইসি থেকে তাঁদের আশ্বস্ত করা হলেও দাবি আদায় না হওয়ায় তারা আজ আবার কর্মসূচি পালন করছেন।
এ জাতীয় আরো খবর..