শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে একের পর এক দেশ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-১৭, | ২১:০৫:০২ |
অপ্রাপ্তবয়স্কদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে ক্রমেই কঠোর হচ্ছে বিভিন্ন দেশের অবস্থান। অস্ট্রেলিয়ার পর ইউরোপের একাধিক দেশ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের পথে হাঁটছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও চীন ভিন্ন ভিন্ন নীতির মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুর্কিভিত্তিক সংবাদসংস্থা আনাদোলু। এতে বলা হয়, গত বছর অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আইন পাস করে। আইনটি কার্যকর হয় গত ১০ ডিসেম্বর। এই আইনের আওতায় একাধিক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে কমবয়সীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।

ফেসবুকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটা জানায়, আইন কার্যকরের পর প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইনস্টাগ্রামে ৩ লাখ ৩০ হাজার, ফেসবুকে ১ লাখ ৭৩ হাজার এবং থ্রেডসে ৩৯ হাজার অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট, রেডিট, টুইচ, থ্রেডস ও কিকসহ প্রায় ১০টি প্ল্যাটফর্ম।

ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ছে একই ধারা
অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তের পর ইউরোপের দেশগুলোও একই পথে হাঁটতে শুরু করেছে। ডেনমার্ক গত ৭ নভেম্বর একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যেখানে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তন হলেই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বড় অ্যাকশন: মোদি 

স্পেন ২০২৪ সালের জুনে একটি বিল অনুমোদন করে, যার মাধ্যমে ডেটা সুরক্ষার ক্ষেত্রে আইনি বয়স ন্যূনতম ১৪ থেকে বাড়িয়ে ১৬ করা হয়। এ ছাড়া ফ্রান্স ও নরওয়েতে ডিজিটাল পরিপক্বতার ভিত্তিতে আগেই বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের ভিন্ন বাস্তবতা
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল কাঠামোর কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে একক নীতি নেই। বয়স যাচাই ও অভিভাবকের সম্মতি নিয়ে রাজ্যভেদে ভিন্ন ভিন্ন আইন ও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ফ্লোরিডাসহ কয়েকটি রাজ্যে নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, আর অন্য রাজ্যগুলোতে এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলমান।

তুরস্কেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশটির জাতীয় সংসদে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সম্ভাব্য প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পরিবার ও সমাজসেবা বিষয়ক মন্ত্রী মাহিনুর ওজদেমির গোকতাস জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে এই বয়সের ব্যবহারকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে বাধ্য করা হবে। শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত একটি খসড়া বিল জানুয়ারির শেষ নাগাদ সংসদীয় কমিটিতে জমা দেয়ার কথা রয়েছে।

চীনের কঠোর ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ
চীন এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আরও কঠোর মডেল অনুসরণ করছে। দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম কড়া ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ১৮ বছরের নিচের শিশু-কিশোরদের জন্য মোবাইল ডেটা অ্যাপ ব্যবহারে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও বিষয়বস্তুর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

চীনের সাইবারস্পেস প্রশাসনের অনুমোদিত, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক বিষয়বস্তুর বাইরে শিশুদের প্রবেশাধিকার সীমিত। ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা দিনে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা অ্যাপ ব্যবহার করতে পারে, ৮ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের জন্য এই সময় এক ঘণ্টা, আর ৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য মাত্র ৪০ মিনিট নির্ধারিত।

চীনা টিকটক হিসেবে পরিচিত দৌইন (Douyin) প্ল্যাটফর্মে ১৪ বছরের কম বয়সীদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘চাইল্ড মোড’ চালু থাকে, যেখানে বিজ্ঞান পরীক্ষা, জাদুঘর প্রদর্শনীসহ শিক্ষামূলক কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেশিরভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই চীনে নিষিদ্ধ।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..