খাবারে লুকিয়ে থাকা নীরব বিষ সিসা, কতটা বিপজ্জনক এটা

সিসা মূলত পরিবেশ থেকেই খাবারে ঢুকে পড়ে। যেসব মাটি, পানি বা পরিবেশে ফসল উৎপাদন হয়, সেখানে যদি সিসার উপস্থিতি থাকে, তবে সেই শাকসবজি, ফল বা শস্যেও সিসা থাকতে পারে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-১৭, | ১৯:২৩:১৯ |
আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, তার ভেতর লুকিয়ে থাকতে পারে সিসা বা লেডের মতো ক্ষতিকর উপাদান। এটা চোখে দেখা যায় না, স্বাদেও বোঝা যায় না। কিন্তু দীর্ঘদিন শরীরে জমলে এর প্রভাব হতে পারে ভয়াবহ, বিশেষ করে শিশুদের জন্য।

সিসা মূলত পরিবেশ থেকেই খাবারে ঢুকে পড়ে। যেসব মাটি, পানি বা পরিবেশে ফসল উৎপাদন হয়, সেখানে যদি সিসার উপস্থিতি থাকে, তবে সেই শাকসবজি, ফল বা শস্যেও সিসা থাকতে পারে। একসময় রং, পেট্রোল, পানির পাইপ, এমনকি রান্নার বাসনেও ব্যাপকভাবে সিসা ব্যবহার হতো। সেসবের অবশিষ্টাংশ এখনো অনেক জায়গার মাটি ও পানিতে রয়ে গেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে সিসার ব্যবহার কমানো হয়েছে, তবু দেশি-বিদেশি কিছু পণ্যে এখনো এর ব্যবহার রয়েছে। এ ছাড়া মাটির তৈরি কিছু বাসন-পাত্র থেকেও খাবারে সিসা মিশে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসার কোনও নিরাপদ মাত্রা নেই। অল্প অল্প করে শরীরে ঢুকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ক্ষতি করতে পারে। এ কারণেই ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) নিয়মিত খাবারে সিসার মাত্রা পরীক্ষা করে এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেয়। যদি কোনও খাবারে সিসার মাত্রা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়, তাহলে সেই পণ্য বাজারে আসা বা বিক্রি হওয়া বন্ধও করা হয়।

সিসা মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত একটি উপাদান। বয়স বা শারীরিক অবস্থা যেমনই হোক না কেন, সিসার সংস্পর্শে এলে যে কেউই এর ক্ষতিকর প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন। তবে খাবারের মাধ্যমে সিসা গ্রহণ করলে তার স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর—খাবারে সিসার মাত্রা কতটা, কতদিন ধরে ও কতবার সেই খাবার খাওয়া হচ্ছে, ভোক্তার বয়স কত এবং শরীরে সিসা ঢোকার অন্য কোনো উৎস আছে কি না। পাশাপাশি শরীরে উপকারী পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকলেও সিসার ক্ষতিকর প্রভাব আরও বাড়তে পারে।\

সিসার প্রভাব 

সিসার সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব দেখা যায় তখনই, যখন মানুষের মস্তিষ্ক সক্রিয়ভাবে বিকাশের পর্যায়ে থাকে। গর্ভাবস্থা, নবজাতক সময় ও শৈশবে অতিরিক্ত সিসার সংস্পর্শে এলে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে শেখার ক্ষমতা কমে যায়, সেই সঙ্গে আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি বুদ্ধিমত্তার মান (আইকিউ) কমে যাওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

গর্ভাবস্থা, নবজাতক সময় ও শৈশবে অতিরিক্ত সিসার সংস্পর্শে এলে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে শেখার ক্ষমতা কমে যায়, সেই সঙ্গে আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
গর্ভাবস্থা, নবজাতক সময় ও শৈশবে অতিরিক্ত সিসার সংস্পর্শে এলে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে শেখার ক্ষমতা কমে যায়, সেই সঙ্গে আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি


খুব ছোট শিশুরা সিসার ক্ষতিকর প্রভাবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কারণ তাদের শরীরের আকার ছোট, বিপাকক্রিয়া দ্রুত এবং শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি খুব দ্রুতগতিতে ঘটে। এ সময় সামান্য পরিমাণ সিসাও তাদের স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে সিসার সংস্পর্শে থাকলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি সিসা গ্রহণের ফলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে, উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে এবং স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

খাবার ও মসলায় সিসা

কিছু খাবার ও মসলায় সিসা থাকার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির জন্য কোনও খাবারে ইচ্ছাকৃতভাবে সিসা যোগ করা আইনত নিষিদ্ধ। তবুও পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কিছু খাবার ও মসলায় সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
মসলা কেনার সময় খোলা বা বাল্ক বিনের মসলা না কিনে আলাদা প্যাকেটে বিক্রি হওয়া মসলা কেনা ভালো। এছাড়া অন্য দেশ থেকে আনা মসলার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে কেনা মসলা ব্যবহার করাই নিরাপদ। যেসব খাবার ও মসলায় তুলনামূলকভাবে বেশি সিসা পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো—

আমদানি করা ক্যান্ডি
ধনিয়া
হলুদ
মরিচ গুঁড়া
কারি পাউডার
লবঙ্গ
গোটা শুকনো মরিচ


খাবার ব্যবহারে সতর্কতা

ফল ও সবজি খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন, যাতে খাবারের ওপর জমে থাকা সিসাযুক্ত ধুলাবালি পরিষ্কার হয়।
শাকসবজির বাইরের পাতা ফেলে দিন।
খাবার সংরক্ষণের জন্য কাচ, স্টেইনলেস স্টিল, শক্ত প্লাস্টিক বা সিসামুক্ত সিরামিক পাত্র ব্যবহার করুন।
পুরোনো, হাতে তৈরি বা আমদানি করা কিছু সিরামিক পাত্রের গ্লেজে সিসা থাকতে পারে। এসব পাত্র বা সিসাযুক্ত ক্রিস্টাল খাবার সংরক্ষণে ব্যবহার করবেন না।
বাড়ির দেয়াল, গ্যারেজ, বেড়া বা খসে পড়া রঙযুক্ত স্থাপনার কাছাকাছি জায়গায় সবজি বাগান করবেন না।
সিসা এমন এক নীরব ঘাতক, যা ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে ক্ষতি করে। তাই সচেতনতা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের খাবার নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। সচেতনতা সিসার জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।


সূত্র: ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও মিনিসোডা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...