সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে বা টিনেজারদের ব্রণের সমস্যা হয়। এ কারণে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের ব্রণ রোধে নানা পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়। কেননা, ব্রণ হলে মুখে ছোট বড় বিভিন্ন আকারের ফুসকুড়ির মতো হতে থাকে। এসব যেমন অসহ্য লাগে, একইভাবে আবার দেখতেও খারাপ দেখায়। এ কারণে ব্রণ কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করা হয়।
তবে বয়ঃসন্ধিকাল ছাড়াও বর্তমানে ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও ব্রণের উপদ্রব দেখা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘অ্যাডাল্ট অ্যাকনি’। কর্মব্যস্ত জীবন, দূষণ ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে এই বয়সেও ব্রণের সমস্যা পিছু ছাড়ে না। ফলে দুঃশ্চিন্তা কাজ করে। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, এই বয়সে এসেও কেন ব্রণ হয়, এর করণীয় কী? এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন প্রকারশ করেছে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম। তাহলে ব্রণের সমস্যার কারণ ও সমাধান জেনে নেয়া যাক-
প্রাপ্ত বয়সেও কেন ব্রণ হয়, কারা বেশি ঝুঁকিতে:
টিনেজ বয়সের ব্রণ সাধারণত টি-জোন (কপাল ও নাক) অংশে দেখা যায়। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে চোয়াল, থুতনি ও গলার আশপাশের অংশে বেশি দেখা যায় ব্রণের সমস্যা।
এই সমস্যা কাদের বেশি হয়:
নারীদের ক্ষেত্রে: হরমোনের পরিবর্তনের জন্য পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি ভোগে থাকেন এই সমস্যায়। পিরিয়ড শুরুর আগে, গর্ভাবস্থায় বা মেনোপজের সময় তাদের ব্রণের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
পিসিওএস আক্রান্তরা: পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম থাকলে শরীরে অ্যান্ড্র্রোজেন হরমোনের সমস্যা বেড়ে যায়। যা ব্রণের সমস্যার মূল কারণ।
অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকা ব্যক্তি: স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’ ত্বকের তেল গ্রন্থিগুলোকে সক্রিয় করে। ফলে বড় ও যন্ত্রণাদায়ক ব্রণ হতে পারে।
ভুল প্রসাধনী ব্যবহারকারী: অনেকেরই ত্বক তৈলাক্ত। এমন ত্বকের ব্যক্তিরা ভারী মেকআপ বা ভুল স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করলে ত্বকের রোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কারা সতর্ক থাকবেন:
ব্রণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি মুখে অবাঞ্ছিত লোম উঠে, ওজন বেড়ে যায় বা পিরিয়ড অনিয়মিত হয়, তাহলে কালক্ষেপণ না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা এন্ডাক্রিনোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, ব্রণ শুধু ত্বকের সমস্যা নয়, এটি হরমোনের বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত বহন করতে পারে।
ব্রণ রোধে করণীয়:
সঠিক ক্লিনজিং: দিনে অন্তত দু’বার স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা বেনজাইল পারক্সাইড যুক্ত ফেসওয়াশ দিয়ে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করুন। এতে ত্বকে থাকা অতিরিক্ত তেল ও মৃত কোষ দূর হবে।
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এবং কখনো কখনো দুগ্ধজাত পণ্য ব্রণের সমস্যা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। এ কারণে খাদ্যতালিকায় বেশি বেশি সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল রাখুন।
পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি পান: দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পরিমাণ পানি পান করুন। আর প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। এ ক্ষেত্রে ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন। এতে শরীরের টক্সিন দূর হবে এবং স্ট্রেস কমবে।
ব্রণে হাত দেয়ার অভ্যাস ত্যাগ: ব্রণে হাত দিয়ে খোঁটা বা ফাটানো অনেকেরই অভ্যাস, যা উচিত নয়। এতে আরও ক্ষত তৈরি হয়। আর সংক্রমণের কারণে দাগ স্থায়ী হয়।
নন-কমেডোজেনিক পণ্য: সানস্ক্রিন বা ময়েশ্চারাইজার কেনার আগে ভালো করে দেখে নিন, এটি ‘নন-কমেযোজেনিক’ কিনা। এ ধরনের পণ্য রোমকূপ বন্ধ করে না।
এ জাতীয় আরো খবর..