গুনাহ বা পাপ মানুষকে মহান রবের রহমত থেকে বঞ্চিত করে। সেই সঙ্গে এটি ধীরে ধীরে মানুষকে পাপাচারের দিকে ধাবিত করে। হাদিসে এসেছে, মানুষ তার পাপকাজের কারণে তার প্রাপ্য রিজিক থেকেও বঞ্চিত হয়। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৪০২২)
তবে মহান রাব্বুল আলামিন পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু। যার ফলে তিনি বান্দার অনেক গুনাহ বা পাপই ক্ষমা করে দেন। পবিত্র কুরআনে খোদ মহান আল্লাহ তা’য়ালা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আর তোমাদের প্রতি যে মুসিবত (বিপদ) আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। আর অনেক কিছুই তিনি ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা আশ-শুরা, আয়াত: ৩০)
অপর আয়াতে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজদের ওপর বাড়াবাড়ি (জুলুম) করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সব পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৫৩)
পরকালে সফল হতে তাই ক্ষণস্থায়ী এই পৃথিবীতে পাপ বা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা অত্যন্ত জরুরি। সেই সঙ্গে উত্তম আমল করাও আবশ্যক। কারণ, বান্দার আমলেই নির্ধারণ হবে পরকালে তার ঠিকানা চিরশান্তির জান্নাত নাকি ভয়ংকর শাস্তির জাহান্নাম।
তবে ইচ্ছাকৃত কিংবা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষ পাপকাজে জড়িয়ে যায়। এজন্য মুমিনের উচিত সর্বাবস্থায় পাপ বা গুনাহের কাজ থেকে মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা। সেই সঙ্গে গুনাহ বা পাপ কাজে জড়িয়ে পড়লে উপলব্ধি হওয়ামাত্রই খাঁটি তওবা করে সঠিক পথে ফিরে আসা। এ ক্ষেত্রে নিচে কুরআনে বর্ণিত ছোট ৩টি দোয়া তুলে ধরা হলো, যেগুলোর মাধ্যমে গুনাহ বা পাপের জন্য মহান রবের কাছে ক্ষমা চেয়ে দোয়া করতে পারেন।
رَبَّنَاۤ اِنَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغۡفِرۡ لَنَا ذُنُوۡبَنَا وَ قِنَا عَذَابَ النَّارِ
বাংলা: রাব্বানা ইন্নানা-আমান্না, ফাগফিরলানা, জুনুবানা, ওয়াক্বিনা আযাবান-নার। অর্থ: ‘হে আমাদের রব, নিশ্চয়ই আমরা ঈমান আনলাম। অতএব, আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমাদের আগুনের আযাব (জাহান্নামের আযাব) থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা ইমরান, আয়াত: ১৬)
رَبِّ اِنِّیۡ ظَلَمۡتُ نَفۡسِیۡ فَاغۡفِرۡ لِیۡ
বাংলা: রাব্বি ইন্নি জালামতু নাফসি, ফাগফিরলি। অর্থ: হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি আমার নফসের প্রতি জুলম করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। (সুরা কাসাস, আয়াত: ১৬)
رَّبِّ اغۡفِرۡ وَ ارۡحَمۡ وَ اَنۡتَ خَیۡرُ الرّٰحِمِیۡنَ
বাংলা: রাব্বিগ্-ফির, ওয়ারহাম, ওয়া-আনতা খাইরুর-রহিমিন। অর্থ: হে আমাদের রব, আপনি ক্ষমা করুন, দয়া করুন এবং আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ১১৮)
এ জাতীয় আরো খবর..