ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনি কিশোর মোহাম্মদ সাদ নাসআনের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) পশ্চিম তীরের রামাল্লা জেলার আল-মুগাইয়ির গ্রামে তার জানাজায় জড়ো হন হাজারো মানুষ। শোকাহত পরিবার, স্বজনহারা ও এলাকাবাসী চোখের পানিতে শেষ বিদায় জানায় ১৪ বছর বয়সী মোহাম্মদকে। ইসরায়েলি বর্বরতার মুখে হঠাৎ থেমে যাওয়া কিশোর জীবনের প্রতীক হয়ে ওঠে তার নিথর দেহ।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, শনিবার ইসরায়েলি সেনারা আল-মুগাইয়ির গ্রামে প্রবেশ করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় সেনারা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয় মোহাম্মদ সাদ নাসআন। তার পিঠ ও বুকে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
গ্রামবাসীরা জানান, মোহাম্মদ কোনো অস্ত্র বহন করছিল না। সে ছিল স্কুলপড়ুয়া এক কিশোর-যার দিন কাটার কথা ছিল বই-খাতা আর স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু বাস্তবতা তার জন্য নিয়ে আসে গুলি আর অকাল মৃত্যু। জানাজার সময় তার মা-বাবার আহাজারীতে আকাশ ভারী হয়ে ওঠে, প্রতিবেশীরা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এই দৃশ্য যেন ফিলিস্তিনে বারবার ফিরে আসা এক করুণ অধ্যায়ের আরেকটি পৃষ্ঠা।
পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সেনা অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরেই বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। নিয়মিত অভিযানে শিশু ও কিশোরদের প্রাণহানির ঘটনাও বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এসব অভিযানে অধিকাংশ সময় বেসামরিক মানুষ-যাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।
আল-মুগাইয়ির গ্রামটিও এর আগে একাধিকবার অভিযানের শিকার হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেনা প্রবেশের পরই ভয়ভীতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। মোহাম্মদের মৃত্যু সেই দীর্ঘ সহিংসতারই আরেকটি নির্মম ফল।
জানাজা শেষে গ্রামের মানুষ ক্ষোভ আর শোক একসঙ্গে প্রকাশ করে বলেন, মোহাম্মদের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়-এটি পুরো ফিলিস্তিনি সমাজের ক্ষত। একজন কিশোরের রক্তে ভিজে যায় মাটির পথ, আর প্রশ্ন হয়ে ওঠে-আর কত শিশু-কিশোর এভাবে হারিয়ে যাবে।
এ জাতীয় আরো খবর..