একটু খেদমত, একটু আদব— যখন দোয়ার দরজা খুলে দেয়

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-১৩, | ১৭:২৩:৩৩ |
এটি অদ্ভুত এক নবীপ্রেমের ঘটনা ও দোয়া। হজরত তালহা ইবন বারা (রা.)। তিনি ছিলেন অল্প বয়সের সাহাবি। জীবনের শুরুতেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। একদিন তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এমন অসুস্থতা— যা দেখে বোঝা যাচ্ছিল, এটাই হয়তো শেষ সময়। খবর পৌঁছাল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে। প্রিয় নবী নিজে ছুটে এলেন তার খোঁজ নিতে। ঘরে ঢুকেই বুঝে গেলেন— এই রোগ থেকে তার আর ফেরা নেই।

নবীজি (সা.) সেদিন উপস্থিত লোকদের বললেন— তালহার যখন ইন্তেকাল হবে, আমাকে খবর দিও। আমি এসে জানাজার নামাজ পড়াব।

একবার ভাবুন তো! যার জানাজা রাসুলুল্লাহ (সা.) পড়াবেন— তার মর্যাদা কতটা মহান! এটা কি ছোট সম্মান? এটা তো দুনিয়া-আখিরাতের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য! 

নবীজি (সা.) এ কথা বলে চলে গেলেন।

তালহার নবী প্রেম

কিন্তু এখানেই দেখা গেল তালহার প্রকৃত নবীপ্রেম। তিনি উপস্থিত লোকদের ডেকে বললেন, যদি রাতে আমার মৃত্যু হয়, দয়া করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে খবর দিও না।

সুবহানাল্লাহ! কেন এই নিষেধ? কারণ তিনি জানতেন— রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাড়ি থেকে তার বাড়ি তিন-চার মাইল দূরে। পথে ইহুদিদের বসতি। রাতের অন্ধকারে চলাফেরা কষ্টকর। নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে।

তিনি ভাবলেন, আমার জানাজার জন্য নবীজি কেন কষ্ট করবেন? আমার কারণে কেন আমার প্রিয় নবীর কষ্ট হবে? যদিও নবীজি জানাজা পড়ালে তাঁর জন্য বিশাল ফজিলত ছিল, তবুও তিনি সেই সুযোগ নিজের হাতে ছেড়ে দিলেন। এটাই তো প্রেম! এটাই তো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা!

অবশেষে রাতে তার ইন্তেকাল হয়ে গেল। পরিবার তার ওসিয়ত অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে খবর দিল না। পরদিন সকালে নবীজি জানতে পারলেন। খুব আফসোস করলেন। সঙ্গে সঙ্গে তার কবরের কাছে গেলেন। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এই দোয়া করলেন—

اللَّهُمَّ الْقَ طَلْحَةَ تَضْحَكُ إِلَيْهِ وَيَضْحَكُ إِلَيْكَ

‘হে আল্লাহ! আপনি তালহার সঙ্গে এমন অবস্থায় মিলিত হোন, যেন আপনি তাকে দেখে হাসছেন, আর সে আপনাকে দেখে হাসছে।’ (মাজমাউয যাওয়াইদ ১৫৯৬৯)

একবার ভাবুন! রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে তার নাম ধরে দোয়া করছেন! যদি নবীজি জানাজায় আসতেন, তাহলে সাধারণ জানাজার দোয়া পড়তেন-

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا, وَمَيِّتِنَا

হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃত সবাইকে ক্ষমা করে দিন…। 

এই দোয়ায় তালহার নাম আসত না। সাধারণ দোয়ার মধ্যে মিশে যেত। কিন্তু তালহা নিজের সুবিধা ত্যাগ করলেন, নবীর কষ্ট এড়াতে চাইলেন, নবীকে আরাম দিলেন। ফলাফল কী হলো? নবীর জবান দিয়ে তার নাম ধরে দোয়া বের হয়ে এল! এটাকেই বলে—দোয়া বের করানো।

অনেকে আছে—দোয়া চায়, আমার জন্য দোয়া করবেন। কিন্তু খুব কম মানুষ আছে— যারা এমন কাজ করে যার কারণে বড় মানুষের মুখ থেকেই আপনা-আপনি দোয়া বের হয়ে আসে। একটু খেদমত, একটু আদব, একটু ভালো ব্যবহার— কখনো কখনো দোয়ার দরজা খুলে দেয়।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...