মিয়ানমারের গুলি, মাথার খুলি খুলে রাখা হল হুজাইফার

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-১৩, | ১৪:৫২:১০ |
সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে আহত টেকনাফের শিশু হুজাইফা আফনানের (৯) মাথায় বিদ্ধ গুলিটি অস্ত্রোপচার করে বের করতে পারেননি চিকিৎসকরা। পরবর্তী অস্ত্রেপচারের গুলিটি বের করার আশায় তার মাথার খুলি খুলে রাখা হয়েছে। রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার হয়।

চমেক হাপপাতালের চিকিৎসকরা জানান, শিশু হুজাইফা আফনানের (৯) শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে শিশুটির চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক বসে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে। হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে।

গত রবিবার সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকার শিশু হুজাইফা। এদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার মস্তিষ্কে গুলি রয়ে গেছে। মস্তিষ্কের চাপ কমাতে খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়।

হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ জানান, জটিল অস্ত্রোপচার করে কয়েক ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করেও গুলিটা বের করা সম্ভব হয়নি। গুলি বের করতে চাইলে মুমূর্ষু শিশুটির জীবন হুমকিতে পড়বে। কারণ গুলিটি মাথার বিপজ্জনক স্থানে রয়েছে।  তার শারীরিক অবস্থারও তেমন উন্নতি হয়নি। 

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন  সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিশুটির সার্বিক অবস্থা ক্রিটিক্যাল। রবিবার রাতে তার একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কিন্তু গুলিটা বের করা যায়নি। শিশুটির শারীরিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন বিভাগের ডাক্তারদের সাথে কথা বলেছি। তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।’

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কথা হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ জানান, শিশুটির অবস্থা আগের মতোই। কিছুক্ষণ পর মেডিক্যাল বোর্ড বসবে। খুলি খুলে রাখা একটি মেডিক্যাল প্রসিডিউর, এটি চিকিৎসার অংশ।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল ও বোমা বিস্ফোরণ থামছে না। তিন দিন ধরে রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানে বিমান হামলা জোরদার করেছে সরকারি জান্তা বাহিনী। অন্যদিকে আরাকান আর্মির সঙ্গে স্থলভাগে সংঘর্ষে জড়িয়েছে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র তিনটি গোষ্ঠী। এ কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। ওপারের বিকট বিস্ফোরণে সীমান্তবর্তী টেকনাফের গ্রামগুলো কেঁপে উঠছে। ওপার থেকে ছোড়া গুলি এসে পড়ছে এপারে লোকজনের ঘরবাড়ি, চিংড়িঘের ও নাফ নদীতে।

হুজাইফার চাচা মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, গত শনিবার সারা রাত গোলাগুলির শব্দে এলাকার মানুষ আতঙ্কে ছিল। আমরাও ঘরের ভেতরে ছিলাম। রবিবার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত দেখে আমি ঘর থেকে বের হই। এর কিছুক্ষণ পর আমার ভাতিজিও খেলতে বের হয়। এ সময় সে সড়কের কাছাকাছি চলে আসে। তখনই আবার সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি শুরু হয়েছে। তখন একটি গুলি তার মুখের পাশ দিয়ে মাথায় ঢুকে যায়।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...