গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ও হুমকির সুর যখন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, তখন বেশ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডেনমার্ক। দেশটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি সামরিকভাবে গ্রিনল্যান্ডে হস্তক্ষেপের পথে হাঁটে, সে ক্ষেত্রে সেনাদের ‘আগে গুলি, পরে প্রশ্ন করার’ নীতিতে কাজ করার নির্দেশ কার্যকর থাকবে। ন্যাটো জোটভুক্ত দুই দেশের মধ্যে এমন অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। খবর এনডিটিভি
ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালায়, তাহলে ডেনিশ সেনাদের আগে গুলি চালাতে হবে, তারপরে প্রশ্ন করতে হবে। ১৯৫২ সাল থেকে চালু থাকা সেনাবাহিনীর ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’-এর আওতায় এই নির্দেশনা দেয়া আছে, যেখানে বলা হয়েছে— ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষা না করে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক হামলা চালাতে হবে।
ডেনিশ সংবাদপত্র বার্লিংস্কে এই নির্দেশনার বিষয়ে বর্তমান অবস্থান জানতে চাইলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ওই নিয়ম এখনও কার্যকর রয়েছে। মূলত এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ন্যাটোভুক্ত এই ভূখণ্ডটি অধিগ্রহণে তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার। আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিপক্ষদের ঠেকাতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রেসিডেন্ট ও তার দল বিভিন্ন অপশন নিয়ে আলোচনা করছে, আর সেনাবাহিনী ব্যবহারের বিষয়টি সর্বাধিনায়কের হাতে সব সময়ই একটি অপশন হিসেবে থাকে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে তিনি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কিনতে চান, সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে নয়। এদিকে ডেনমার্ক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বৈঠককে তারা ‘প্রয়োজনীয় সংলাপ’ হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছে।
আরও পড়ুিন: গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বাস ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুধবার বলেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডেনমার্ক ‘স্পষ্টতই’ যথাযথ ভূমিকা পালন করেনি। তিনি আরও বলেন, আর্কটিকে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় ট্রাম্প প্রয়োজন হলে যেকোনও পর্যায় পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত।
অবশ্য ডেনমার্ক বারবার বলেছে, গ্রিনল্যান্ড ‘বিক্রির জন্য নয়’। এর আগে মঙ্গলবার ইউরোপীয় নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের ভৌগোলিক অখণ্ডতা অবশ্যই সম্মান করতে হবে
এর আগে গত সোমবার ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনও ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালায়, তাহলে তা ন্যাটো জোটের অবসান ঘটাবে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে গড়ে ওঠা নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়বে।
ট্রাম্পের যুক্তি, আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়া প্রয়োজন।
এ জাতীয় আরো খবর..