আল্লাহর ওয়াস্তে কেউ কিছু চাইলে, না দিলে কি গুনাহ হবে?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-০৮, | ২১:০৯:১৮ |
দান-সদকা মুমিনের অন্যতম গুণ। তবে কেউ যখন ‘আল্লাহর ওয়াস্তে’ বা আল্লাহর সন্তুষ্টির দোহাই দিয়ে হাত পাতে, তখন বিষয়টি আর সাধারণ থাকে না; বরং এর সাথে মহান রবের নাম জড়িয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের করণীয় ও শরয়ি বিধান জানা জরুরি।

শরিয়তের দৃষ্টিতে সাধারণ দান-সদকা করা নফল ইবাদত। আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সাধ্যমতো দান করতে উৎসাহিত করেছেন, তবে বাধ্য করেননি। তাই ‘আল্লাহর ওয়াস্তে’ চাওয়ার পর কেউ যদি দান না করে, তার গুনাহ হবে না। কারণ, দান করা ঐচ্ছিক বিষয়। তবে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত ও সত্যবাদী প্রার্থীকে আল্লাহর নাম শোনার পর খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া তাকওয়া এবং রবের প্রতি ভালোবাসার দাবির পরিপন্থী।

হাদিসের নির্দেশনা ও সঠিক ব্যাখ্যা
হাদিস শরিফে আল্লাহর নামে সাহায্যপ্রার্থীকে ফিরিয়ে না দেওয়ার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন- ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে আশ্রয় চায়, তাকে আশ্রয় দাও। যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কিছু চায়, তাকে দান করো।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৬৭২)

মুহাদ্দিস ও ফিকহবিদদের মতে, এই হাদিসের উদ্দেশ্য দান করাকে ফরজ বা ওয়াজিব সাব্যস্ত করা নয়; বরং আল্লাহর নামের মর্যাদা রক্ষা ও দানশীলতার প্রতি সর্বোচ্চ উৎসাহ প্রদান করা। তাই এটি পালন করা মোস্তাহাব ও তাকওয়ার পরিচায়ক, কিন্তু অপরিহার্য নয়।


আধুনিক প্রেক্ষাপট ও প্রতারণা
বর্তমানে অনেকে ‘আল্লাহর ওয়াস্তে’ শব্দটিকে পেশাদার ভিক্ষাবৃত্তি বা প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। এ বিষয়ে ফিকহি সমাধান হলো- কেউ যদি নিশ্চিতভাবে জানে যে, চাওয়ার পেছনে প্রতারণা, ভন্ডামি বা কোনো হারাম উদ্দেশ্য রয়েছে, সেক্ষেত্রে তাকে দান না করলে গুনাহ বা তাকওয়ার খেলাফ কিছু হবে না। বরং যাচাই করে প্রকৃত হকদারকে দেওয়াই উত্তম।

সামর্থ্য না থাকলে করণীয়
যদি কারো দান করার মতো সামর্থ্য না থাকে বা পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকে তাহলে নম্র আচরণের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেওয়া বাঞ্ছনীয়। সাহায্যপ্রার্থীর সাথে খারাপ আচরণ করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে নির্দেশ দিয়েছেন- ‘আর ভিক্ষুককে ধমক দিও না।’ (সুরা দুহা: ১০)

এমন পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন- ‘আর যদি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অনুগ্রহের প্রত্যাশায় তাদের থেকে মুখ ফিরাতে হয়, তবে তাদের সাথে নম্র কথা বলো।’ (সুরা ইসরা: ২৮) অর্থাৎ, সামর্থ্য না থাকলে ধমক না দিয়ে বিনয়ের সাথে অক্ষমতা প্রকাশ করা বা সুন্দর কথা বলে বিদায় দেওয়াই ইসলামের শিক্ষা।

সারসংক্ষেপে, আল্লাহর ওয়াস্তে চাইলে না দিলে শরয়িভাবে কোনো গুনাহ লেখা হয় না। তবে সাহায্যপ্রার্থী যদি প্রকৃত অভাবী হন, তবে মুমিনের উচিত সাধ্যমতো সামান্য হলেও দান করা। অন্তত আল্লাহর নামের সম্মানে তাকে বিমুখ না করা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...