শীতে শিশুকে বেশি গরম কাপড় পরিয়ে বিপদ বাড়াচ্ছেন না তো?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-০৭, | ১৬:১৯:০৩ |
শীত এলেই শিশুদের সর্দি-কাশি, ঠান্ডা লাগা যেন ঘরে ঘরে এক সাধারণ দুশ্চিন্তা। ঠান্ডা থেকে বাঁচাতে অনেক বাবা-মা ই শিশুকে একের পর এক গরম জামাকাপড় পরিয়ে দেন। কিন্তু সব সময় বেশি পোশাক মানেই সুরক্ষা—এমনটা নয়। অতিরিক্ত কাপড় পরালে শিশুর অস্বস্তি, ঘাম, এমনকি অসুস্থতাও দেখা দিতে পারে। তাই শীতে শিশুকে পোশাক পরানোর ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, নিয়ম মেনে ও বুঝে শিশুর শীতপোশাক নির্বাচন করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

ঠান্ডা না গরম—শিশুর অবস্থা বুঝবেন যেভাবে

চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত বড়দের তুলনায় বেশি থাকে। তাদের বিপাকহার বেশি এবং শরীরে থাকা ‘ব্রাউন ফ্যাট’ স্বাভাবিকভাবেই শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। তবে শীতে শিশুর ঠান্ডা লাগছে না কি গরম লাগছে, তা বুঝতে হলে গলা, বুক ও পেটে হাত দিয়ে দেখতে হবে।

এসব অংশ যদি ঠান্ডা মনে হয়, তাহলে বুঝবেন আরও গরম পোশাক দরকার।

হাতের তাপমাত্রার সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা মিললে পোশাক ঠিক আছে ধরে নেওয়া যায়।

যদি শিশু ঘামতে শুরু করে বা মুখ লাল হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে অতিরিক্ত কাপড় পরানো হয়েছে—সঙ্গে সঙ্গে কিছু পোশাক খুলে দিতে হবে।

কয়টি পোশাক পরাবেন এবং কীভাবে

শীতের পোশাক পরানোর সময় লেয়ারিং গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম স্তরের পোশাক অবশ্যই সুতির হওয়া উচিত। সরাসরি উলের পোশাক পরালে র‍্যাশ বা চুলকানির সমস্যা হতে পারে। সুতির পোশাকের ওপর উলের কাপড় পরানো ভালো। বাইরে বেরোলে হালকা উইন্ডচিটার বা জ্যাকেট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সব কিছুই নির্ভর করবে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ও আরামের ওপর।

টুপি ও মোজা ব্যবহারে সতর্কতা

খুব বেশি শীত না হলে ঘরের ভেতর টুপি বা মোজা পরানোর প্রয়োজন নেই। বাইরে বেরোনোর সময় এগুলো পরানো যেতে পারে। উলের টুপি অনেক সময় শিশুর অস্বস্তির কারণ হয়, তাই সুতির টুপি বা হালকা স্কার্ফ বেশি উপযোগী।

শীতে সংক্রমণ এড়াতে যা বলছেন চিকিৎসক

শীতকালেও নিয়মিত শিশুকে গোসল করানো জরুরি। গোসলের আগে তেলমালিশ করলে শরীর উষ্ণ থাকে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন সাবান ও শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে শিশুর সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

অনেকের ধারণা, শীতে ফল খেলে ঠান্ডা লাগে—চিকিৎসকের মতে এটি ভুল। ফলের মধ্যে থাকা ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি শিশুকে রোদে নিয়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করানোও শীতে সুস্থ রাখার জন্য জরুরি।

সঠিক পোশাক, পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের যত্ন—এই তিনের সমন্বয়েই শীতে শিশুকে সুস্থ ও আরামদায়ক রাখা সম্ভব।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..