গিবতের ভয়াবহতা ও পরিত্রাণের সাতটি উপায়

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-০৭, | ১৫:৫৭:৩৩ |

গিবত আরবি শব্দ। এর অর্থ পরনিন্দা করা, দোষচর্চা করা, কুৎসা রটনা, পেছনে সমালোচনা করা, দোষারোপ করা, কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ অন্যের সামনে তুলে ধরা।গিবত দুরারোগ্য ব্যাধির মতো, যা কর্মফল ধ্বংস করে দেয়। এখানে গিবত থেকে পরিত্রাণ লাভের কয়েকটি উপায় বর্ণনা করা হলো:

গিবতের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত হওয়া

গিবত থেকে বাঁচার জন্য সর্বপ্রথম এর ভয়াহতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা জরুরি। কারণ কোনো কিছুর ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা না থাকলে সেই ক্ষতিকারক বিষয় থেকে সতর্ক থাকা যায় না। সুতরাং গিবত যে ভয়াবহ পাপ সেটা যদি কেউ না জানে এবং গিবতের স্বরূপ তার কাছে অস্পষ্ট থাকে, তবে তার মাধ্যমে গিবতের পাপ হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু সে যদি জানে গিবত সাধারণ কোনো গুনাহ নয়, এটা ব্যভিচার, সুদ-ঘুষ, চুরি-ডাকাতির চেয়েও মারাত্মক। এই পরনিন্দা ঋণের মতো, যা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।

গিবতে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করে পরিবেশ ও সঙ্গ। অনেক সময় বাধ্য হয়ে গিবত শুনতে হয়, অথচ গিবত শোনাও সমান গুনাহ। মজলিসে অনিচ্ছা সত্ত্বেও গল্পচ্ছলে গিবত হয়ে যায়। সে জন্য নিন্দুক ও গিবতকারীর সঙ্গ ও বৈঠক পরিত্যাগ করা উচিত। গিবতকারীকে যদি বাহ্যিক দ্বিনদারও মনে হয়, তবু তার ব্যাপারে সতর্ক-সাবধান থাকা অপরিহার্য।

ইবনুল মুবারক (রহ.) মসজিদে সালাত আদায় করার পরে কারো সঙ্গে কোনো গল্প করতেন না। সোজা বাড়িতে চলে যেতেন। একদিন শাকিফ ইবনে ইবরাহীম বলখি (রহ.) তাঁকে বলেন, ‘আচ্ছা! আপনি তো আমাদের সঙ্গেই সালাত আদায় করেন, কিন্তু আমাদের সঙ্গে বসেন না কেন?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি ফিরে গিয়ে সাহাবি ও তাবেঈদের সঙ্গে বসে কথা বলি।’ আমরা বললাম, ‘সাহাবি-তাবেঈদের আপনি কোথায় পেলেন’? তিনি বলেন, ‘আমি ফিরে গিয়ে ইলমচর্চায় মনোনিবেশ করি। তখন তাদের কথা ও কর্মের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। তোমাদের সঙ্গে বসে আমি কী করব? তোমরা তো একত্রে বসলেই মানুষের গিবত করা শুরু করে দাও।’ (সিফাতুছ সাফওয়াহ : ৩/৩২৪)

নিজের ভুলত্রুটির দিকে মনোনিবেশ করা

মানুষ মাত্রই দোষত্রুটি বিদ্যমান। কারোটা প্রকাশ পায়, কারোটা পায় না। সে জন্য নিজের দোষত্রুটি নিয়ে অধিক চিন্তা করা উচিত, তাহলে ভুল সংশোধন সহজ হবে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যদি তোমার বন্ধুর ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা মনে করতে চাও, তবে নিজের দোষত্রুটির কথা স্মরণ করো। (ইবনু হাজার হায়তামি, আজজাওয়াজির : ২/১৮)

গিবতের কাফফারা

গিবতের পাপের গুনাহ থেকে ক্ষমা পাওয়ার উপায় হচ্ছে, যার গিবত করা হয়েছে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া। যেমন—আবু বকর ও উমর (রা.) একবার নিজেদের মধ্যে তাদের এক খাদেমের অনুপস্থিতিতে তার বেশি ঘুমানোর ব্যাপারে আলোচনা করেন। সামান্য এই গিবতের কারণে রাসুল (সা.) পরে তাদের বলেন যে আমি তোমাদের উভয়ের দাঁতের মধ্যে তার গোশত দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর তারা রাসুল (সা.)-এর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তাদেরকে তাদের খাদেমের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। (সিলসিলা সহিহাহ, হাদিস : ২৬০৮)

তবে সরাসরি ক্ষমা চাইতে গেলে যদি ফিতনা সৃষ্টি হয়, তাহলে নিজের জন্য ও তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং যে স্থানে তার কুৎসা রটনা করা হয়েছে সেখানে তার প্রশংসা করতে হবে। (আল-ওয়াবিলুস সাইয়েব, ইবনুল কাইয়িম, পৃষ্ঠা-১৪১)

এ প্রসঙ্গে হুজায়ফা (রা.) বলেছেন, ‘গিবতের কাফফারা হচ্ছে—যার গিবত করা হয়েছে তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।’ (বাহজাতুল মাজালিস, ইবনু আবদিল বার, পৃষ্ঠা-৮৬)

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...