উচ্চ রক্তচাপের পেছনের আসল কারণ জানালেন কার্ডিওলজিস্ট

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-০৪, | ১৯:১৪:৩০ |
বর্তমান সময়ে উচ্চ রক্তচাপ যেন নীরব এক সঙ্গী হয়ে গেছে ব্যস্ত জীবনে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে বা মানসিক দুশ্চিন্তায় ভরা বাস্তবতায় অনেকেই না বুঝেই এই সমস্যার সঙ্গে বসবাস করছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সমাধান হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ খাওয়া শুরু হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্ট ড. জ্যাক উলফসন বলছেন, এখানেই রয়েছে বড় ভুল। তার মতে, উচ্চ রক্তচাপ আসল সমস্যা নয়, এটি শরীরের একটি সতর্কবার্তা মাত্র।  


অ্যারিজোনাভিত্তিক এই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক ভিডিওতে দাবি করেছেন, কেবল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে ওষুধ খেলে হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক বা মৃত্যুঝুঁকি কমে না। বরং এতে মূল সমস্যাটি আড়ালেই থেকে যায়। ড. উলফসনের ভাষায়, রক্তচাপের ওষুধ উচ্চ রক্তচাপের মূল কারণকে স্পর্শই করে না। ফলে ওষুধ খেয়ে রিডিং কমলেও হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি একই থেকে যেতে পারে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আপনার পায়ে কেউ হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে আপনি ব্যথানাশক চাইবেন না, বরং বলবেন হাতুড়ি মারা বন্ধ করতে। উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হওয়া উচিত কারণ বন্ধ করতে হবে, শুধু উপসর্গ ঢাকলে হবে না। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে কেবল সংখ্যার পেছনে ছোটা মানে আসল বিপদের দিকটি উপেক্ষা করা।

তাহলে উচ্চ রক্তচাপ আসলে কী

ড. উলফসন বলেন, উচ্চ রক্তচাপ হলো শরীরের একটি সংকেত যার মাধ্যমে শরীর জানিয়ে দেয়, ভেতরে কোথাও সমস্যা হচ্ছে। এর পেছনে থাকতে পারে—

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ
শরীরে প্রদাহ
রক্তনালির কার্যকারিতার সমস্যা
পুষ্টির ঘাটতি
ক্ষতিকর টক্সিন
শরীরের সঠিক সিগন্যালিং ব্যবস্থায় গড়মিল
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ওষুধ দিয়ে শুধু রক্তচাপের সংখ্যা কমানো মানে হলো সমস্যার মূল কারণকে উপেক্ষা করা।

রক্তচাপের মানে কী বোঝায়: রক্তচাপ সাধারণত দুইটি সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়। যার একটি সিস্টোলিক চাপ অর্থাৎ হৃদপিণ্ড সংকুচিত হলে ধমনিতে চাপ। অন্যটি ডায়াস্টোলিক চাপ, যেটি হৃদপিণ্ড শিথিল থাকাকালীন চাপ। মেয়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী ১২০/৮০ এমএম এইচজি-এর নিচে হলে স্বাভাবিক। ১২০–১২৯/৮০-এর নিচে হলে এলিভেটেড। ১৩০–১৩৯ বা ৮০–৮৯ হলে স্টেজ ১ হাইপারটেনশন। ১৪০/৯০ বা তার বেশি হলে স্টেজ টু। এবং ১৮০/১২০-এর বেশি হলে জরুরি অবস্থা। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের পাশাপাশি নজর দিতে হবে জীবনযাত্রার দিকে। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। 

উচ্চ রক্তচাপকে শুধু একটি সংখ্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি শরীরের একটি সতর্ক ঘণ্টা, যা জানায় ভেতরে কোথাও ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ড. উলফসনের বক্তব্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় উপসর্গ নয়, কারণের চিকিৎসাই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থতার চাবিকাঠি। তবে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। 

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস  

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...