আধুনিক যুগে অফিসে কাজ করা মানে দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা। কম্পিউটারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করার ফলে ধীরে ধীরে শরীরের ভঙ্গি খারাপ হতে শুরু করে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ে পিঠের ওপর।
প্রথমে সামান্য অস্বস্তি মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা তীব্র পিঠের ব্যথায় পরিণত হয়। বিশেষ করে কোমরের নিচের অংশ, কাঁধ ও মেরুদণ্ডের আশপাশে ব্যথা খুবই সাধারণ হয়ে উঠেছে।
অনেকেই ব্যস্ততার কারণে এই সমস্যাকে গুরুত্ব দেন না, অথচ সময়মতো যত্ন না নিলে ভবিষ্যতে এটি বড় শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
পিঠের ব্যথা কমানোর জন্য সব সময় ওষুধের প্রয়োজন হয় না। কিছু সহজ ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং নিয়মিত করলে ঘরে বসেই এই সমস্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে, ব্যায়ামগুলো করতে আলাদা কোনো যন্ত্রপাতি বা বেশি জায়গার দরকার হয় না।
অফিসের চেয়ারে বা বাড়িতে কয়েক মিনিট সময় বের করলেই যথেষ্ট।
সিটেড স্পাইনাল টুইস্ট
এটি এমন একটি ব্যায়াম, যা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে শক্ত হয়ে যাওয়া মেরুদণ্ডকে আরাম দেয়। এই ব্যায়ামটি অফিসে চেয়ারে বসেই করা যায়। ধীরে ধীরে শরীরের ওপরের অংশ একদিকে ঘোরালে মেরুদণ্ডে জমে থাকা টান কমতে শুরু করে। কিছুক্ষণ সেই অবস্থায় থাকলে পিঠের পেশি শিথিল হয় এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়। নিয়মিত এই ব্যায়াম করলে কোমরের ব্যথা কমে এবং বসে কাজ করার ক্লান্তি অনেকটাই দূর হয়ে যায়।
ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ
বিড়াল-গরু স্ট্রেচ বা ক্যাট-কাউ যোগাসন পিঠের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি যোগব্যায়াম। এই স্ট্রেচ মেরুদণ্ডকে সামনে ও পেছনে নড়াচড়া করিয়ে তার নমনীয়তা বাড়ায়। শ্বাসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই ব্যায়াম করলে পিঠের গভীর পেশিগুলো সক্রিয় হয় এবং দীর্ঘদিনের শক্ত ভাব ধীরে কমে আসে।
যারা কোমরের নিচের অংশে বা মেরুদণ্ডে নিয়মিত ব্যথা অনুভব করেন, তাদের জন্য এই ব্যায়াম বিশেষভাবে উপকারী। নিয়মিত অনুশীলনের ফলে শরীরের ভঙ্গিও উন্নত হয়।
চাইল্ড পোজ
শিশুর ভঙ্গি বা চাইল্ড পোজ পিঠের পেশিকে সম্পূর্ণভাবে শিথিল করার একটি সহজ ও কাজের যোগাসন। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর এই ভঙ্গিতে কিছু সময় কাটালে পিঠ, কাঁধ ও ঘাড়ের ওপর জমে থাকা চাপ কমে যায়। এই আসনে শরীরকে সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে রাখার ফলে মেরুদণ্ড স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং মানসিক প্রশান্তিও পাওয়া যায়। কাজের ফাঁকে বা দিনের শেষে এই ভঙ্গিটি করলে সারা দিনের ক্লান্তি অনেকটাই দূর হয়ে যায়।
এই ব্যায়ামগুলোর সঙ্গে প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় কিছু ছোট পরিবর্তন আনাও জরুরি। দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে না থেকে প্রতিঘণ্টায় কিছুক্ষণ উঠে হাঁটা, সঠিক উচ্চতার চেয়ার ব্যবহার করা এবং কম্পিউটারের স্ক্রিন চোখের সমান উচ্চতায় রাখা পিঠের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানিপান ও হালকা শরীরচর্চা পিঠের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যথা শুরু হলেই সেটিকে উপেক্ষা না করা। নিয়মিত ব্যায়াম ও সচেতন জীবনযাত্রা পিঠের ব্যথা থেকে দীর্ঘমেয়াদে মুক্তি দিতে পারে। তবে সেই ব্যথা যদি খুব বেশি হয় বা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এ জাতীয় আরো খবর..