২০২৬ সাল: আরো ফুলেফেঁপে উঠবে ক্ল্যাসিক গাড়ির বাজার

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৫-১২-২৯, | ২১:৫৭:০০ |
বিশ্বজুড়ে শৌখিন ও ক্ল্যাসিক গাড়ির বাজার ২০২৬ সালে আরো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিখ্যাত বিমা ও গাড়ি সংগ্রাহক প্লাটফর্ম হ্যাগার্টির প্রধান নির্বাহী ম্যাককিল হ্যাগার্টি।

বিশ্বজুড়ে শৌখিন ও ক্ল্যাসিক গাড়ির বাজার ২০২৬ সালে আরো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিখ্যাত বিমা ও গাড়ি সংগ্রাহক প্লাটফর্ম হ্যাগার্টির প্রধান নির্বাহী ম্যাককিল হ্যাগার্টি। মূলত নতুন প্রজন্মের সংগ্রাহকদের আগ্রহ এবং অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটার প্রসার এ শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করতে যাচ্ছে বলে তার পূর্বাভাস। খবর সিএনবিসি।


হ্যাগার্টির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নিলাম ও অনলাইনে ক্ল্যাসিক গাড়ির বিক্রি ১০ শতাংশ বেড়ে ৪৮০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে গাড়ির হাতবদল ও বাজারের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে হ্যাগার্টি বলছে, আগামী বছর এ চাহিদা আরো বাড়বে। এ পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে জেন এক্স, মিলেনিয়াল ও জেন-জি প্রজন্ম।


হ্যাগার্টির সিইও জানান, পুরনো সংগ্রাহক বেবি বুমারস প্রজন্ম বাজার থেকে সরে দাঁড়ালেও তরুণরা বাজারকে নতুন রূপ দিচ্ছে। তারা বিশেষ করে অনলাইনে কেনাকাটায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ফলে চলতি বছর অনলাইনে ক্ল্যাসিক কার বিক্রির পরিমাণ ১২ শতাংশ বেড়ে ২৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

তরুণ সংগ্রাহকদের পছন্দের গাড়ির বয়সও কমছে। ১৯৫০ বা ৬০-এর দশকের স্পোর্টস কারের পরিবর্তে এখন নব্বইয়ের দশকের বা তার পরবর্তী সময়ের হাই-পারফরম্যান্স সুপারকারের চাহিদা তুঙ্গে। বিশেষ করে ফেরারি এফ৪০ ও এফ৫০, বুগাটি ভেরন ও চিরন, ম্যাকলারেন এফ১ এবং পাগানি ও কোয়েনিগসেগের মতো ব্র্যান্ডগুলো এখন সংগ্রাহকদের কাছে পরম আরাধ্য।

হ্যাগার্টির মতে, আজকের সুপারকার নির্মাতারা উৎপাদন বাড়াচ্ছে। ফলে সামনে জোগানও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকবে। তিনি বলেন, ‘ফেরারি, পোরশে সব কোম্পানি প্রতি বছরই বিক্রিতে নতুন রেকর্ড গড়ছে। ভবিষ্যতে মানুষ এ গাড়িগুলোই কিনবে, সংগ্রহ করবে এবং ধরে রাখবে।’

এছাড়া আসন্ন গ্রেট ওয়েলথ ট্রান্সফার বা উত্তরাধিকারীদের মাঝে ধনীদের বিপুল সম্পদ হস্তান্তরের ঢেউ বাজারে বড় প্রভাব ফেলবে। সেরুলি অ্যাসোসিয়েটসের হিসাবে, ২০৪৮ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন ডলার উত্তরাধিকার সূত্রে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে যাবে। এর মধ্যে রিয়েল এস্টেটের পাশাপাশি সংগ্রহযোগ্য গাড়িও থাকবে।

ম্যাককিল হ্যাগার্টি বলেন, ‘এর একটা অংশ অবশ্যই গাড়ি। পরিবারগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে গাড়ি রাখবে, গ্যারেজে সংরক্ষণ করবে, নাকি বিক্রি করবে। এ প্রক্রিয়া এখনই শুরু হচ্ছে। আর সে সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবেই বাজারে প্রভাব ফেলবে।’

যারা ক্ল্যাসিক গাড়িকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন, তাদের জন্য হ্যাগার্টি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে ‘বুল মার্কেট লিস্ট’। এ তালিকায় এমন গাড়ি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেগুলোর বাজারমূল্য ভালো, চালানোর অভিজ্ঞতা আনন্দদায়ক এবং চাহিদার কারণে ভবিষ্যতে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তালিকায় রয়েছে ২০০৪-০৭ সালের পোরশে ক্যারেরা জিটি (মূল্য ১৫ লাখ ডলারের বেশি), ১৯৬৯-৭২ সালের আলফা রোমিও জিটিভি (৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ ডলার) এবং ১৯৯৯-২০০৫ সালের মাজদা এমএক্স-৫ মিয়াটা (৯-২৬ হাজার ডলার)।

সবশেষে হ্যাগার্টি বলেন, ক্ল্যাসিক গাড়ির বাজার মূলত সম্পদ সৃষ্টির ওপরই নির্ভরশীল। শেয়ারবাজার টানা তৃতীয় বছরের মতো দ্বি-অঙ্কের প্রবৃদ্ধির পথে এবং সুদহার কমছে। এ প্রেক্ষাপটে সংগ্রাহকদের কেনাকাটার সক্ষমতা বাড়ছে। মানুষ নিজের আর্থিক অবস্থান নিয়ে ভালো অনুভব করছে বলেও মনে করেন তিনি। ম্যাককিল হ্যাগার্টি বলেন, ‘তারা অ্যাকাউন্টে ঢুকে দেখে বিনিয়োগ ভালো করছে। এ আত্মবিশ্বাসই বাজারকে এগিয়ে নিচ্ছে।’

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...