সৌন্দর্যপ্রিয়তা ও সৌন্দর্যচর্চার আকাঙ্ক্ষা মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। তবে ইসলাম শুধুমাত্র মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা ও আচরণ এবং চিন্তাভাবনার সৌন্দর্যকেও গুরুত্ব দেয়। তাই সবমিলিয়েই মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে।’ (সুরা তিন, আয়াত: ৪)
হাদিসেও বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা ও আচরণ এবং চিন্তাভাবনার সৌন্দর্যের কথা এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ওই সময় এক ব্যক্তি নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, মানুষ চায় যে তার পোশাক সুন্দর হোক, তার জুতা সুন্দর হোক, এও কি অহংকার? জবাবে নবীজি (সা.) বলেন- আল্লাহ সুন্দর, তিনি সুন্দরকে ভালবাসেন। অহমিকা হচ্ছে দম্ভভরে সত্য ও ন্যায় অস্বীকার করা এবং মানুষকে ঘৃণা করা। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৭)
এ ক্ষেত্রে বাহ্যিক সৌন্দর্যচর্চার ক্ষেত্রে আয়না নিত্য প্রয়োজনীয় একটি বস্তু। আয়না দেখা ও পরিপাটি থাকাও নবীজির (সা.) সুন্নত। এমনকি চুল আঁচড়ানো থেকে শুরু করে সব কাজই নবীজি (সা.) ডান দিক থেকে শুরু করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সব কাজেই- জুতা পারায়, চুল আঁচড়ানোয় এবং পবিত্রতা অর্জনে ডান দিক থেকে শুরু করতে ভালোবাসতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১০)
তবে আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখা নিয়ে প্রায়সময়ই একটি কথা শোনা যায় যে, রাতের বেলায় আয়না দেখতে হয় না। এতে অমঙ্গল হয়। আসলেই কি তাই?
ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ’র মতে, রাতের বেলায় আয়না দেখাকে অমঙ্গলজনক মনে করা সম্পূর্ণ কুসংস্কার। ইসলামী শরিয়াহ’র সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কুরআন ও হাদিসের কোথাও রাতের বেলায় আয়না দেখার বিষয়ে নিষেধের কথা আসেনি।
শায়খ আহমাদুল্লাহ’র ভাষ্য, আমাদের দেশে অনেক মুরুব্বিরা রাতের বেলায় আয়না দেখতে নিষেধ করেন। এর পেছনে হয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিশ্বাস থাকে, নয়তো ছোটদের কোনো ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থেকে বাঁচানোর জন্য এমন কথা তারা বলে থাকেন। তবে কুরআন-হাদিসে এমন কোনো কথা নেই। অতএব, দিন হোক বা রাত, যেকোনো সময় আয়না দেখলে কোনো অসুবিধা নেই।
এ জাতীয় আরো খবর..