শাড়ি পরতে পছন্দ করেন? পরার যে ছোট্ট ভুলে মরণব্যাধী রোগের ঝুঁকি, রইল পরামর্শ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৫-১২-১৮, | ০৭:৩৬:৩০ |

শাড়ি পরতে পছন্দ করেন না, এমন বাঙালি নারী বা মেয়ে খুব কমই রয়েছেন। আবার প্রচলিত রয়েছে―শাড়িতেই নারী। অর্থাৎ শাড়ি যেন নারীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ জন্য বিভিন্ন উৎসব-আয়োজনে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী শাড়ি-কাপড়ে সেজে থাকেন নারীরা।

 

শাড়ি পরতে পছন্দ করলেও ছোট ভুলের কারণে ভয়াবহ রোগ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর একটি প্রতিবেদন। শাড়ি পরার অভ্যাস এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির মধ্যে সম্ভাব্য যোগসাজশ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাড়িতে ব্যবহৃত আঁটসাঁট কোমরের কর্ড বা মেরুরজ্জু দীর্ঘস্থায়ী ঘর্ষণ এবং চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে ত্বকের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই সঙ্গে মার্জোলিন আলসারের বিকাশ ঘটে, যা একটি বিরল এবং আক্রমণাত্মক ধরনের ত্বকের ক্যানসার।

 

বিএমজে কেস রিপোর্টসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঐতিহ্যবাহী শাড়ি পরার অভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সাধারণত শাড়িতে দেখা যায় এমন আন্ডারস্কার্টে শক্ত করে বাঁধা কোমরের কর্ড পরার কারণে ত্বকের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে মার্জোলিন আলসার নামে পরিচিত একটি বিরল রোগ এবং যা আক্রমণাত্মক ধরনের ক্যানসার। যাকে প্রচলিত ভাষায় বলা হয় ‘পেটিকোট ক্যানসার’।

সাধারণত, দীর্ঘদিন ধরে শাড়ি পরা বা টাইট পোশাক পরার কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ঘর্ষণ এবং চাপের কারণে সৃষ্ট হয়। প্রতিবেদনে দু’জন বয়স্ক নারীর ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। যারা দীর্ঘক্ষণ শাড়ি শক্ত করে কোমরের বন্ধন করার কারণে স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের মধ্যে ত্বকের ক্ষতি এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর প্রদান করে।

শাড়ির ক্যানসার, ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ:
‘শাড়ি ক্যানসার’ নামে পরিচিত এই রোগের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কোমরের শক্ত বন্ধনই এর প্রধান কারণ। কোমরের কর্ড বা মেরুরজ্জুর দীর্ঘস্থায়ী চাপের কারণে ত্বক পাতলা হয়, ক্ষয় হয় এবং একপর্যায়ে আলসার হয়। ফলে একটি অনিরাময় যোগ্য ক্ষত তৈরি হয়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যানসারে রূপান্তর হতে পারে।

 

এছাড়া প্রতিবেদনে দু’জন বয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে নজর কেড়েছে, যারা শাড়ির কোমরের বন্ধন বা দড়ি শক্ত করে বাঁধার জন্য মার্জোলিন আলসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এই আলসার স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা নামে পরিচিত। সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী জ্বালা বা অনিরাময় যোগ্য ক্ষতযুক্ত অঞ্চলে হয়ে থাকে। উভয় ক্ষেত্রেই শাড়ির কোমরের দড়ি থেকে দীর্ঘক্ষণ চাপের কারণে ত্বকের তীব্র ক্ষতি হয়। যা থেকে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

 

একটি ক্ষেত্রে ৭০ বছর বয়সী একজন নারীর ডান পাশে একটি স্থায়ী আলসার তৈরি হয়েছিল। এর সঙ্গে রঞ্জকতাও হ্রাস পেয়েছিল। পেটিকোট পরার পরও আঁটসাঁট বা শক্ত কোমরের দড়ি ক্রমাগত ত্বকের ক্ষতি করে, ফলে শেষ পর্যন্ত স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা শনাক্ত হয়। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে, ষাটের দশকের শেষ দিকে একজন নারী লুগডা পরেছিলেন, যা একটি ঐতিহ্যবাহী শাড়ির স্টাইল। এটি কোমরে বাঁধা ছিল। এ কারণে একই ধরনের আলসার তার লিম্ফ নোডগুলোয় বিস্তার করে।

শাড়ি ক্যানসারের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ:
ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞরা নারীদের আলগা পেটিকোট পরার পরামর্শ দিয়ে থাকেন অথবা কোমরের শক্ত কর্ড এড়িয়ে চলার কথা বলেন। বিশেষ করে তারা যদি ত্বকের কোনো পরিবর্তন দেখেন, তাহলে সতর্ক হতে হবে। জটিলতা প্রতিরোধে ত্বকের স্বাচ্ছন্দ্য বোধ ও নিরাময়ের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ জায়গা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

শাড়ি ক্যানসারের কারণ:
টাইট পেটিকোট বা কোমড়ের দড়ি থেকে ক্রমশ ঘর্ষণ, শাড়ির প্লিট থেকে নিয়মিত চাপ, দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের জ্বালা, কোমরের অংশে সূর্যের আলোর অভাব এবং ঘাম ও আর্দ্রতা কমে যাওয়া।

 

শাড়ি ক্যানসারের লক্ষণ:
কোমরের চারপাশে কালচে ভাব (হাইপারপিগমেন্টেশন), ত্বক ঘন হওয়া, রুক্ষ বা আঁশযুক্ত দাগের বিকাশ এবং ক্ষেত্র বিশেষ স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমার অগ্রগতি হলে সতর্ক হতে হবে।

শাড়ির ক্যানসার প্রতিরোধের উপায়:
টাইট পেটিকোট বা কোমরবন্ধনী এড়িয়ে চলতে হবে। শাড়ির গিঁটের অবস্থান ঘোরান। পেটিকোটের কাপড় পরিবর্তন করে নরম কাপড় ব্যবহার করুন। ভালো স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখুন, নিয়মিত কোমরের অংশ পরীক্ষা করুন এবং সম্ভব হলে ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...