পানিদূষণ: মেঘনায় ভেসে উঠছে মরা মাছ, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৫-০১-২৬, | ১০:৩০:০১ |

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা নদীর এখলাশপুর থেকে ছটাকি পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিপুল পরিমাণ মাছ, সাপ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠছে। পানির স্রোতে ও ঢেউয়ে এসব মাছ ও প্রাণী তীরে এসে স্তূপ হচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে এ ঘটনা ঘটছে।

এতে দেশি জাতের মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী হুমকিতে রয়েছে। বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার দাবি, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এলাকার কারখানার বর্জ্যে মেঘনার পানি বেশি মাত্রায় দূষিত হওয়ায় এবং পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটছে।

রবিবার (২৬ জানুয়ারি) মেঘনা নদীর মতলব উত্তর উপজেলার এখলাশপুর, চরকালিয়া, বাবুরবাজার, দশানী, ছটাকি, ষাটনল, মোহনপুর ও এখলাশপুর এলাকায় দেখা যায় নদীর পাড় ও তীরে রাশি রাশি মরা মাছ। নদীর মাঝখানে ও এক পাশে ভেসে উঠছে বিপুল হারে দেশি জাতের মরা মাছ। স্রোত ও ঢেউয়ের চাপে ভেসে ওঠা এসব মরা মাছ জমা হচ্ছে নদীর তীরে। মরা মাছের মধ্যে আছে চেউয়া, সেলেং, মেদমাছ, চিংড়ি, আইড়, কাঁচকি, বাইলা, চাপিলা ইত্যাদি। এ ছাড়া আছে বিভিন্ন জলজ প্রাণী।

স্থায়ী বাসিন্দারা জানান, মেঘনার এখলাশপুর থেকে ছটাকি পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভেসে উঠছে মরা মাছ ও জলজ প্রাণী। এসব মরা মাছ ও প্রাণী পানিদূষণের মাত্রা বাড়াচ্ছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারপাশে। এতে ওই নদী-তীরবর্তী এলাকার মানুষ বায়ুদূষণের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে এলাকার ছোট ছোট শিশু ও স্থানীয় লোকজনের কেউ কেউ তীর থেকে এসব মরা মাছ কুড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার ষাটনল এলাকার মো. শান্ত বলেন, এক সপ্তাহ ধরে মেঘনার তীরে বিপুল পরিমাণ মরা মাছ জমা হচ্ছে। মরা মাছের দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মরা মাছ ও জলজ প্রাণীর গন্ধে নদীপাড়ে থাকা যাচ্ছে না। পানিতে মরা মাছের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ওই পানি আরও বেশি দূষিত হচ্ছে। মরা মাছ ও পানির দূষণ একাকার হয়ে দুর্গন্ধের মাত্রা বাড়াচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে নদীতীরের বাসিন্দারা।

উপজেলার চরকালিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দলিল উদ্দিনের ভাষ্য, যেভাবে কয়েক দিন ধরে মেঘনায় মরা মাছ ভেসে উঠছে, তাতে দেশি মাছের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়বে। বিপন্ন হবে মাছ ও অন্য জলজ জীববৈচিত্র্য। কী কারণে এগুলো এভাবে মরে যাচ্ছে, তা দ্রুত অনুসন্ধান করা জরুরি। পানিদূষণও বন্ধ হওয়া দরকার।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের কারখানার বর্জ্য বা ময়লা-আবর্জনা সেখানকার নদীতে ফেলা হচ্ছে। বর্জ্য মেশানো ওই পানি মেঘনায় মিশে যাওয়ায় মেঘনার মিঠা পানিও দূষিত হচ্ছে। পানিতে কলকারখানার বর্জ্য মিশে যাওয়ায় পানির পিএইচ ও অ্যামোনিয়ার মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। এতে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেছে। পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা একেবারে কমে যাওয়ায় এবং অধিক মাত্রায় পানিদূষণের ফলে ব্যাপক হারে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। দূষিত পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত পানি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।


শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...