‘সেরাটা খেলে সিরিজ জিততে চাই’

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৮, | ১১:২৮:৪৩ |

দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে টাইগাররা। বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ তোলে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান। জবাবে ১৯.৪ ওভারে ১৫২ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

তাই ম্যাচ শেষে কিছুটা আফসোস ঝরেছে জিম্বাবুয়ের বোলিং পরামর্শক কুইন্টন ফ্রেন্ডের কণ্ঠে। তবে এখনই হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না তিনি। ম্যাচ হারলেও চোখ রাখছেন সিরিজ জয়ে।

জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে বেকায়দায় থাকা বাংলাদেশ দল সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পেয়েছে ৩৪ রানের ঝলমলে এক জয়। যার ফলে সিরিজেও ফিরেছে ১-১ সমতা। এখন সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ হয়ে গেছে সিরিজ নির্ধারণী।  

দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ফিল্ডাররা যেন হাতে সাবান মেখে ফিল্ডিংয়ে নেমেছিলেন। আগে ব্যাট করতে নেমে সাইফ হাসান এবং তানজিদ হাসান তামিমের জুটিতে বাংলাদেশ তোলে ১২০ রান। যেখানে প্রায় গোটা পাঁচেক ক্যাচ ফেলে বড় ‘অবদান’ রাখেন জিম্বাবুইয়ান ফিল্ডাররা। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই ওপেনার তুলে ফেলেন ফিফটি। শেষ ওভারে টানা চার ছক্কায় ২৮ রান নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ তোলে ১৮৬ রানের বড় পুঁজি।

জবাবে জিম্বাবুয়েও প্রথম ওভারে ১৫ রান নিয়ে ফেলে, তবে হারিয়েছে ১ উইকেটও। রান দ্রুত তুললেও হাতে উইকেট রাখতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। অনেক লড়াই শেষে ১৫২ রানেই থেমেছে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। বাংলাদেশ তুলে নিয়েছে ৩৪ রানের জয়।

ম্যাচ শেষে কিছুটা আফসোস ঝরেছে জিম্বাবুয়ের বোলিং পরামর্শক কুইন্টন ফ্রেন্ডের কণ্ঠে। তবে এখনই হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না তিনি। ম্যাচ হারলেও চোখ রাখছেন সিরিজ জয়ে। সংবাদ সম্মেলনে ফ্রেন্ড বলেছেন, ‘১৮৬ রান তাড়া করতে হলে ভালো শুরু পেতেই হবে। ব্রায়ান বেনেট দারুণ ইনটেন্ট দেখিয়েছে। গতিশীল শুরু করেছে। ইনিংস শুরুর সাথে শেষটাও ভালোভাবে করতে হবে যেমনটা বাংলাদেশ করেছিল। যদি ইনিংসজুড়ে এমনটা করতে পারতাম আমাদেরও সুযোগ থাকত। আমার মনে হয় প্রয়োজনের সময়ে অনেক উইকেট হারিয়েছি আমরা। ভালো জুটিও বানাতে পারিনি যেগুলো দরকার ছিল। ৭০-৮০ রানের জুটি দরকার ছিল আমাদের। তাহলে শেষ দিকে ভালো জায়গায় থাকতাম।’

দলের সবাইকে সুযোগ কাজে লাগানোর তাগাদা দিয়েছেন কোচ, ‘চেষ্টা করতে হবে সুযোগ আসলে যেন কাজে লাগাতে পারি। আমরা টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজে দারুণ করেছিলাম। তৃতীয় ওয়ানডেতে কিছু মিস হয়েছে যদিও, তবে সেই ম্যাচে মূল বোলারদেরকে আমরা বিশ্রামে রেখেছিলাম। বাকিদের সুযোগ দিয়েছিলাম। ফলে এখানে সবার জন্যই শেখার সুযোগ আছে। এই পর্যায়ে এসে সবাই নিজেদের স্কিল দেখানোর সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে। এগুলো ভালো ব্যাপার। তবে বোলিংয়ে নিজেদের ভূমিকা পালনে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। বেশিরভাগ বোলারই তা করে দেখাচ্ছে, গত কয়েক সিরিজ ধরেই। সামনে আর একটি ম্যাচ বাকি আছে। আশা করছি সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলবে। একটি ম্যাচই হেরেছি, সিরিজ নয়। রবিবারে নিজেদের সেরাটা খেলে সিরিজ জিততে চাই আমরা।’

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে জিততে পারলে এখনও সিরিজ জয়ের সুযোগ আছে জিম্বাবুয়ের। সেই সুযোগ দুই দলের সামনেই আছে। তবে সুযোগটা লুফে নিতে চান জিম্বাবুয়ের বোলিং পরামর্শক। কুইন্টন ফ্রেন্ড বলেছেন, ‘আসলে আমি দেখতে চাই কোথায় ভুল হয়েছে আমাদের। ব্লেস (ব্লেসিং মুজারাবানি) এবং রিচি (রিচার্ড এনগারাভা) আগের ম্যাচে ৮ উইকেট নিল। এই দুজন দুর্দান্ত ছিল। তারাই পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে। পেস বোলিংয়ে সিরিজজুড়ে আমরা ভালো করছি। ইতিবাচক অনেক ব্যাপার আছে এখানে। জুটি বানাতে পারিনি ভালোভাবে, ম্যাচটা আরও গভীরে নিয়ে যেতে পারিনি। ফিল্ডিংয়ে অ্যাপ্লিকেশন ঠিকঠাক হয়নি। তবে আমরা ফিরে গিয়ে এসব নিয়ে অনেক আলাপ করব যে, কীভাবে কী ঠিক করতে পারি। আশা করছি রবিবারে আমরা জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারব।’

১৯ জুলাই মাঠে গড়াচ্ছে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..