✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৭, | ১৪:৪৬:০৮ |ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ দেখল দুনিয়া। দলের সংখ্যা এবং ম্যাচের সংখ্যা বাড়ায় দর্শক যেমন বেড়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে শতকোটি ডলারের বিশাল এক বাণিজ্যের ক্ষেত্রও। মাঠের খেলোয়াড়রা যখন ইতিহাস গড়ছেন, মাঠের বাইরে তখন চলছে টাকা আয়ের মহোৎসব। তবে এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবাই কিন্তু লাভবান হতে পারেননি। লাভ-লোকসানের এই হিসাবে কেউ ফুলেফেঁপে উঠেছেন, আবার কাউকে গুনতে হয়েছে বিপুল লোকসান।
এই মহাযজ্ঞে সবচেয়ে বড় জয়ী পক্ষ নিঃসন্দেহে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। কাতার বিশ্বকাপের বিপুল আয়ের রেকর্ড ভেঙে এবার উত্তর আমেরিকার মাটিকে কেন্দ্র করে তাদের আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকছে। সম্প্রচার স্বত্ব, টিকিট বিক্রির পাশাপাশি টিকিটের পুনঃবিক্রয় বাজারে ১৫ শতাংশ ফি বসিয়েও মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে সংস্থাটি। ফিফার এই বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করেছে খেলায় যুক্ত হওয়া নতুন ‘হাইড্রেশন ব্রেক’। যদিও ফিফা এটিকে কেবল খেলার স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত বলে দাবি করছে, তবে সম্প্রচারক প্রতিষ্ঠানগুলো একে বিজ্ঞাপনের দারুণ এক সুযোগ হিসেবে লুফে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স স্পোর্টসের মতো চ্যানেলগুলো ৯০ সেকেন্ডের এই বিরতিকে স্পনসরদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে। একই সাথে অ্যাডিডাস ও কোকা-কোলার মতো বড় স্পনসর এবং প্রচারণায় ব্যবহৃত হওয়া ডেভিড বেকহ্যামের মতো সাবেক তারকারাও মাঠের বাইরে বাণিজ্যের খেলায় দারুণভাবে জয়ী হয়েছেন।
মুনাফার এই দৌড়ে আরেক বড় বিজয়ী হলো জুয়া কোম্পানিগুলো। ম্যাচের সংখ্যা বাড়ার কারণে এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজির ইভেন্টে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বাজি ধরা হয়েছে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ম্যাচের মাঝখানে তাৎক্ষণিক বাজি ধরার নতুন প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্পোর্টস বেটিং আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই খাতের আয় বহুগুণ বেড়ে গেছে।
বিপরীতে, সাধারণ ফুটবল ভক্তদের জন্য এই টুর্নামেন্ট ছিল আর্থিকভাবে বেশ পীড়াদায়ক। ফিফার ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতির কারণে টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র ক্ষোভ ছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ফাইনাল ম্যাচের অফিশিয়াল ও পুনঃবিক্রয় টিকিট সাধারণের সম্পূর্ণ নাগালের বাইরে চলে যায়। শুধু টিকিটই নয়, বিমান ভাড়া, খাবার এবং আবাসনের অতিরিক্ত খরচে দিশেহারা হতে হয়েছে সমর্থকদের। এমনকি ৩০ মিনিটের সাধারণ ট্রেন যাত্রার ভাড়াও টুর্নামেন্ট উপলক্ষে বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আয়োজক শহর এবং স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদেরও বড় অঙ্কের লাভের যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, বাস্তবে তা মরীচিকা প্রমাণিত হয়েছে। শুরুতে বলা হয়েছিল বিশ্বকাপের কারণে অর্থনীতিতে শতকোটি ডলার যুক্ত হবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্বকাপের কারণে বিশৃঙ্খলা এড়াতে সাধারণ পর্যটকেরা এসব শহর এড়িয়ে চলায় উল্টো অনেক শহরের স্বাভাবিক পর্যটন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে চরম মন্দা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফিফা নিজেদের জন্য বিপুল সংখ্যক রুম আগাম বুকিং করে রাখায় কৃত্রিম চাহিদার সৃষ্টি হয়েছিল, যার ফলে পরবর্তীতে আশানুরূপ সাধারণ বুকিং পায়নি হোটেলগুলো। খোদ নিউইয়র্ক ও সিয়াটেলের বড় অংশের হোটেল মালিকরাই এই বিশ্বকাপকে ব্যবসা সফল কোনো আয়োজন হিসেবে দেখছেন না।
সূত্র: বিবিসি