উত্তর আমেরিকা আসরের আজকের মঞ্চটি হবে একটু অন্যরকম। বস্টনে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি দুই পরশক্তি-ইউরোপের নীল দানব ফ্রান্স এবং অ্যাটলাসের সিংহ মরক্কো। কাগজ কলমে, শক্তিতে আর অতীত ঐতিহ্যের মহিমায় ফেবারিট হয়ত দিদিয়ে দেশমের ফরাসিরাই। কিন্তু কাতার বিশ্বকাপে রূপকথা লেখা মরক্কো এখন আর কেবলই ‘কালো ঘোড়া’ নয়, তারা আফ্রিকার ফুটবলের এক নতুন দীপ্ত সূর্য। এই ম্যাচটি কেবল দুটি দলের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, এটি আদতে ফুটবলীয় শিল্পের কিছু দ্বৈরথের কোলাজ। যার কেন্দ্রবিন্দুতে পিএসজির সাবেক দুই সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পে আর আশরাফ হাকিমি। মাঠের বাইরে তারা হরিহর আত্মা, অথচ আজ মাঠের গতিযুদ্ধে একজন অপরজনকে গুঁড়িয়ে দিতে মরিয়া। এমবাপ্পের পায়ে যখন বলের ছন্দ আর চিতার গতি, হাকিমির ডান প্রান্তের আক্রমণ তখন আতঙ্ক। টুর্নামেন্টসেরার দৌড়ে ফরাসি অধিনায়ক পাঁচ ম্যাচে ৭ গোল করে আছেন মেসির (৮টি) পরেই। তবে দুই অ্যাসিস্ট করলেও গতিতে দারুণভাবে সামলাচ্ছেন মাঠের ডানপ্রান্ত মরক্কোর অধিনায়ক হাকিমি।
মাঝমাঠ আর আক্রমণভাগের অন্য লড়াইগুলোও ছড়াচ্ছে রোমাঞ্চের রারুদ। ফরাসিদের নতুন সেনসেশন মাইকেল ওলিসের বাঁ পায়ের জাদুকরী ড্রিবলিংয়ের বিপরীতে মরক্কোর হয়ে বুক চিতিয়ে লড়বেন ক্ষিপ্রগতির ইব্রাহিম দিয়াজ। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা মরক্কোর আক্রমণ ইঞ্জিন। ফরাসির তারকা পাঁচ অ্যাসিস্টের বিপরীতে অ্যাটলাস তারকার ৪টি। উইংয়ে নরওয়ের সঙ্গে হ্যাটট্রিক করা উসমান দেম্বেলের দমকা হাওয়ার মতো আক্রমণের বিপরীতে খেলবেন আসরে মরক্কোর হয়ে সর্বোচ্চ ৩ গোল করা ইসমাইল সাইবারি। দারুণ ফর্মে থাকলেও কানাডা ম্যাচে শুরুতেই ইনজুরিতে মাঠ ছাড়েন সাইবারি। তিনিই মরক্কোর অন্যতম ভরসা। দেম্বেলে করেছেন ৪ গোল। অন্যদিকে ফরাসি তরুণ ব্রাডলি বারকোলার গতিময় ওভারল্যাপ তো আছেই। বিপরীতে গুরুদায়িত্ব পালন করবেন মাঝমাঠের জেনারেল আজাদিন উনাহি। কানাডা ম্যাচে জোড়া গোল করেন এ তারকা। যিনি নিখুঁত ট্যাকলে প্রতিপক্ষের ছন্দ কাটার কারিগর।
আক্রমণে দারুণ ফর্মে থাকলেও মধ্য মাঠের দুর্বলতা দেখা গেছে ফরাসি কৌশলে। যেখানে অরেলিয়ে চুয়ামেনি অনেকটাই একা। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে তিনি যদি কোনো কারণে খেলতে না পারেন তবে ফরাসিদের স্কোয়াড দুর্বল হয়ে পড়বে। আদ্রিয়েন রাবিও মাঝ মাঠে তেমন অবদান রাখতে পারছেন না। তবে এ ম্যাচের অনেকখানি নির্ভর করছে মরক্কোর উদীয়মান সুপারস্টার আইয়ুব বুয়াদির ওপর। ফরাসিদের মাঝ মাঠের দুর্বলতার সুযোগ নিতে চাইবেন তিনি। ম্যাচের লড়াইটা শেষ প্রহরী দুই গোলকিপারেরও। একদিকে ফ্রান্সের গোলপোস্টে আস্থার প্রতীক মাইক মাইনিয়ন, যার বাজপাখির মতো রিফ্লেক্স ফরাসিদের নিশ্চিত গোল থেকে বাঁচায়। অন্যদিকে মরক্কোর ত্রাতা সেই চিরচেনা ইয়াসিন বুনু, টাইব্রেকারে বা ম্যাচের পেনাল্টি বক্সে যার চওড়া বুক মরক্কোকে স্বপ্ন দেখায় ইতিহাস নতুন করে লেখার। ফেবারিট ফ্রান্সের অহংকার নাকি মরক্কোর অপ্রতিরোধ্য পুনরুত্থান। ফ্রান্সকে হারাতে পারলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে খেলবে। আর ফরাসি জিতলে ব্রাজিলের পর টানা তৃতীয়বারের মতো শেষ চারে উঠবে দিদিয়ে দেশমের দল।
এ জাতীয় আরো খবর..