টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের ওপর মার্কিন হামলার পর বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ক্রমেই নড়বড়ে হয়ে পড়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে নৌযান চলাচলে বড় ধরনের ধীরগতি দেখা গেছে।
জাহাজ-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রণালিটিতে দৃশ্যমান চলাচল মূলত জলপথের উত্তরের একটি ইরান-অনুমোদিত রুটেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন-সমর্থিত ওমানি করিডোরে কার্যত কোনো উল্লেখযোগ্য চলাচল দেখা যায়নি।
বৃহৎ জাহাজগুলোর মধ্যে পারস্য উপসাগর থেকে আসা একটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সুপারট্যাঙ্কার এবং একটি ইরানি পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজকে প্রণালি অতিক্রম করতে দেখা গেছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কিছু জাহাজ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখেও হরমুজ প্রণালি পার হতে পারে।
জাহাজগুলোর ওপর ইরানের ধারাবাহিক হামলার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এসব হামলাকে কেন্দ্র করেই যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান শুরু হয়। এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার উভয় দিক মিলিয়ে মাত্র ১৪টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। জুনের মাঝামাঝি হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির পর এটি সর্বনিম্ন দৈনিক চলাচল।
প্রণালিটির সাম্প্রতিক কার্যক্রমের সঙ্গে তুলনা করলে এটি একটি বড় পরিবর্তন। কেপলারের তথ্য বলছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা হওয়ার পর গত তিন সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৩৪টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে ২৪ জুন সর্বোচ্চ ৫৯টি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করে। বিপরীতে, সংঘাত চলাকালে অধিকাংশ দিনেই এ সংখ্যা ২০টির নিচে ছিল।
যদিও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী ট্যাঙ্কারের চলাচল প্রায় স্থবির, সম্প্রতি দুটি খালি জাহাজ ওমান উপসাগরে প্রবেশ করেছে এবং হরমুজ প্রণালীর পূর্ব প্রবেশমুখের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এদিকে, এলাকায় আবারও বিক্ষিপ্ত ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপের লক্ষণ দেখা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ওমান উপসাগরে ওমানের লিমার দক্ষিণ-পূর্বে কয়েকটি জাহাজকে অস্বাভাবিকভাবে অন্তত ৩০ নট গতিতে চলতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে সম্ভাব্য ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে বিভিন্ন দেশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করায় এ ধরনের ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপ দেখা দিতে পারে। এর ফলে জাহাজের ট্রান্সপন্ডার সংকেত এবং জাহাজ-ট্র্যাকিং তথ্যেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এ জাতীয় আরো খবর..