৩৮ বছরেই থেমে গেল আফগান পেসার শাপুর জাদরানের জীবনযুদ্ধ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৭, | ১৫:৫৬:১৫ |

আফগানিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম পথিকৃৎ ও সাবেক তারকা পেসার শাপুর জাদরান আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।

আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। কয়েক দিন আগেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর প্রকাশ্যে আসে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি ছিলেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানের উত্থানের অন্যতম কারিগর ছিলেন শাপুর জাদরান। গতি, আগ্রাসী বোলিং এবং লড়াকু মানসিকতার জন্য তিনি সমর্থকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত ছিলেন।

শোকবার্তায় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, শাপুর জাদরান ছিলেন দেশের ক্রিকেটের ভিত্তি গড়ে তোলা অন্যতম অগ্রদূত। তার নিষ্ঠা, আবেগ ও অটুট প্রতিশ্রুতি আফগান ক্রিকেটের উত্থান ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ক্রিকেটকে প্রতিষ্ঠিত করার পথেও তার অবদান ছিল স্মরণীয়।

বোর্ড আরও জানায়, ক্যারিয়ারের পুরো সময়জুড়ে তিনি সম্মান, সাহস ও গর্বের সঙ্গে আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার অবদান ও সাফল্য আফগান ক্রিকেটের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শাপুর জাদরানকে নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা উল্লেখ করে বোর্ড বলেছে, মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরেও তিনি অসংখ্য তরুণ ক্রিকেটারের জন্য ছিলেন আশার প্রতীক। তার লড়াকু মানসিকতা, দৃঢ় সংকল্প এবং ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা বহু মানুষকে বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করেছে।

শোকবার্তার শেষে শাপুর জাদরানের পরিবার, বন্ধু, স্বজন, সাবেক সতীর্থ এবং পুরো আফগান ক্রিকেট পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। বোর্ডের ভাষ্য, তার শূন্যতা গভীরভাবে অনুভূত হবে, তবে আফগান ক্রিকেটে তার অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় শাপুর জাদরানের। প্রায় এক দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি আফগানিস্তানের হয়ে ৮০টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে ৪৪টি ওয়ানডেতে নিয়েছেন ৪৩টি এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টিতে শিকার করেছেন ৩৭টি উইকেট।

তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও মূল্যবান রান করেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচটি আজও আফগান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..