মেসিদের কাঁধে লাতিন আমেরিকার স্বপ্ন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৭, | ১৫:৫৪:১৮ |

বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এই দুই পরাশক্তিকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আবেগ আর উন্মাদনা। তবে সেই আবেগে বড় ধাক্কা লেগেছে ব্রাজিলের বিদায়ে। শেষ ষোলো থেকেই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিশ্চিত হওয়ায় এখন লাতিন আমেরিকার কোটি সমর্থকের সব আশা এসে ঠেকেছে লিওনেল মেসিদের আর্জেন্টিনার ওপর।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় কার্লো আনচেলোত্তির দল। শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন ব্রুনো গিমারেস। এরপর ম্যাচের শেষ ভাগে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো ব্রাজিলকে।

ব্রাজিলের বিদায়ের পর আজ আটলান্টায় কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ আফ্রিকার শক্তিশালী দল মিসর।

যদিও কাগজে-কলমে এগিয়ে আর্জেন্টিনা, তবুও শেষ ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয় দলটির কিছু দুর্বলতা সামনে এনে দিয়েছে। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারানো, রক্ষণভাগের সমন্বয়হীনতা এবং খেলোয়াড়দের ক্লান্তি নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ কারণেই শুরুর একাদশে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেস কিংবা জিওভান্নি লো সেলসোকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি হুলিয়ান আলভারেজকে আরও স্বাধীনভাবে খেলানোর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে আক্রমণের পুরো চাপ লিওনেল মেসির ওপর না পড়ে।

অন্যদিকে মিসরও আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর। অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলো পার করা দলটি মোহাম্মদ সালাহ ও ওমর মারমুশকে ঘিরে গড়ে তুলেছে ভয়ংকর আক্রমণভাগ। শক্তিশালী রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণই তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা সের্হিয়ো আগুয়েরোও মেসিদের সতর্ক থাকতে বলেছেন। তাঁর মতে, কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ক্লান্তি স্পষ্ট ছিল। মিসরের মতো শারীরিকভাবে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সেই ক্লান্তি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

ম্যাচের আগে মেসিও স্বীকার করেছেন, টানা নকআউট লড়াইয়ে ক্লান্তি জমেছে। তবে চাপের ম্যাচ জিতে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতাই বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন তিনি।

ব্রাজিলের বিদায়ে এখন পুরো লাতিন আমেরিকার নজর আর্জেন্টিনার দিকে। সেই বাড়তি প্রত্যাশার চাপ সামলে মেসিরা শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেন কি না, সেটিই এখন বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণ।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..