✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৭, | ১৫:৫৫:১৬ |বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্যারাগুয়ের এক সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে তাকে ‘ঘৃণ্য একজন মানুষ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন।
শেষ ষোলোর ম্যাচে এমবাপ্পের করা পেনাল্টির একমাত্র গোলে ১–০ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ফ্রান্স। ম্যাচের পর প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমবাপ্পেকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন। তিনি এমবাপ্পের জাতিগত পরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করেন এবং ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের তাঁর বিরুদ্ধে সহিংস আচরণ করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন।
এর জবাবে এমবাপ্পে কঠোর ভাষায় বলেন, ‘সেলেস্তে আমারিয়া, আপনি একজন ঘৃণ্য মানুষ এবং আপনার পদে থাকার যোগ্য নন। আপনি প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এই বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা যে লড়াই করেছে, আপনার বেপরোয়া ও বর্ণবাদী মন্তব্য সেই গৌরবকে আড়াল করে দিয়েছে। আপনার মতো মানুষকে আমি কখনোই ঘৃণা ও বর্ণবাদ ছড়ানোর স্বাধীনতা দিতে চাই না।’
ঘটনার পর কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, সিনেটরের মন্তব্য ‘জঘন্য, অগ্রহণযোগ্য এবং আইনত শাস্তিযোগ্য’। তাই তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফেডারেশনের ভাষ্য, ‘এই মন্তব্য শুধু একজন খেলোয়াড়কে নয়, পুরো ফ্রান্সকে অপমান করেছে। এমন অপরাধের বিচার হওয়া উচিত।’
এদিকে প্যারাগুয়ে সরকারও সিনেটরের বক্তব্য থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। এক বিবৃতিতে সরকার জানায়, এসব মন্তব্য দেশটির মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্মানের নীতির পরিপন্থী। সিনেটরের বক্তব্য তার ব্যক্তিগত মতামত, এটি কোনোভাবেই সরকার বা প্যারাগুয়ের জনগণের অবস্থান নয়।
প্যারাগুয়ের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতিও বর্ণবাদী মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘বর্ণবাদ, বিদেশবিদ্বেষ কিংবা সহিংসতায় উসকানি দেওয়া কোনো বক্তব্যই প্যারাগুয়ের প্রকৃত মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে না। রাজনীতি ও খেলাধুলাকে আলাদা রাখা উচিত।’
অন্যদিকে ফ্রান্সের সহকারী কোচ গি স্তেফানও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, ‘এটি লজ্জাজনক, জঘন্য এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’