✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৭, | ১৫:৫১:১৮ |বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জীবনের অন্যতম বড় ম্যাচ খেলতে নামছে মিশর। মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। রাজধানী কায়রো থেকে শুরু করে আলেকজান্দ্রিয়া, গিজা সবখানেই একটাই আলোচনা, সালাহরা কি পারবেন ইতিহাস গড়তে?
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে মিশর। তবে এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, কোটি মিশরীয়র কাছে এটি জাতীয় গর্বের লড়াই।
দেশজুড়ে গাড়ি, বাড়ির বারান্দা ও সড়কে উড়ছে মিশরের পতাকা। দোকানপাট, বাজার, গণপরিবহন, কর্মস্থল সবখানেই একটাই আলোচনা, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারবে মিশর?
কায়রোর বিভিন্ন ক্যাফে যেন ছোট ছোট স্টেডিয়ামে পরিণত হয়েছে। বড় পর্দায় খেলা দেখার প্রস্তুতি নিয়েছেন হাজারো সমর্থক। দেশাত্মবোধক গান বাজছে সর্বত্র। পতাকা, বাঁশি ও জার্সি বিক্রেতাদেরও এখন ব্যস্ত সময়।
রাউন্ড অব ৩২-এ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠায় দলের প্রতি মানুষের বিশ্বাস আরও বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান দলটি মিশরের ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখতে পারে।
গিজার নির্মাণ ঠিকাদার রাগাব মোহাম্মদ বলেন, ‘শেষ ষোলোয় ওঠাই আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তবে এখানেই থেমে থাকতে চাই না।’
গিজার আরেক সমর্থক মাহমুদ বলেন, পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ খেলেছে মিশর। অধিনায়ক মোহামেদ সালাহ ও ইমাম আশুর দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। তবে জয়-পরাজয় যাই হোক, এই দল ইতোমধ্যেই দেশের মানুষের সম্মান বাড়িয়েছে।
চিকিৎসক আদহাম আদেল মনে করেন, এবারের মিশরকে দেখে ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর ঐতিহাসিক অভিযানের কথা মনে পড়ে। তার আশা, মরক্কোর মতো মিশরও এবার শেষ আটে জায়গা করে নেবে।
রাস্তায় রাস্তায় এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে জাতীয় পতাকা, বাঁশি ও সমর্থকদের বিভিন্ন সামগ্রী। গিজার আল-হারাম সড়কে পতাকা বিক্রেতা মাসউদ আল-সায়েদ বলেন, ‘অনেক বছর পর এমন উন্মাদনা দেখছি। আফ্রিকা কাপ টানা তিনবার জেতা দলের সময় যেমন ছিল, এখন আবার সেই পরিবেশ ফিরে এসেছে।’
অনেক সমর্থক বিশ্বাস করেন, ম্যাচ যদি টাইব্রেকারে গড়ায়, তাহলে গোলরক্ষক মুস্তাফা শোবাইরের হাত ধরেই জয় আসতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সালাহ ও ওমর মারমুশের মতো তারকারা থাকায় যেকোনো অঘটন ঘটানো সম্ভব।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার শক্তি সম্পর্কে সবাই সচেতন। তবু কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কঠিন লড়াই সমর্থকদের নতুন আশা দেখিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলতে পারলে চমক দেখানো অসম্ভব নয়।
মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানের ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনের বক্তব্যও দেশটিতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেক সমর্থক মনে করছেন, মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি এই দল মানুষের হৃদয়ও জয় করেছে।
আটলান্টায় খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কায়রো, গিজা, আলেকজান্দ্রিয়া ও দেশের অন্যান্য শহরের ক্যাফে, রেস্তোরাঁ এবং খোলা জায়গায় লাখো মানুষ একসঙ্গে খেলা দেখবেন। তাদের সবার প্রার্থনা একটাই আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে মিশর যেন বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লেখে।