✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৬, | ১৪:২৪:৪৭ |প্রশান্ত মহাসাগরের একটি সাবমেরিন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চীন। সোমবার(৬ জুলাই) দেশটির নৌবাহিনীর মুখপাত্র হলেন ওয়াং সুয়েমেং বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বিবৃতিতে মুখপাত্র তিনি বলেন, সোমবার(৬ জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিটে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির একটি কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন সফলভাবে একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে।
প্রশিক্ষণমূলক সিমুলেশন ওয়ারহেড বহনকারী এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট উন্মুক্ত সমুদ্র এলাকায় নিখুঁতভাবে গিয়ে পড়েছে। মুখপাত্র আরও বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি চীনের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের একটি নিয়মিত কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে এ বিষয়ে আগেই অবহিত করা হয়েছিল।
এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দিন চীনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান সামরিক বন্দর ও সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটন কেন্দ্র ছিংদাও-এর অদূরে চীন ও রাশিয়ার বার্ষিক যৌথ নৌ-মহড়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি ওই মহড়ার অংশ ছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক নিন্দা জানিয়েছে জাপান। দেশটি জানিয়েছে, তারা চীনকে এই উৎক্ষেপণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিল। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের সামরিক শক্তির এটি ছিল এক বিরল প্রদর্শনী। অথচ এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত চীনের কাছে ৫০০টিরও বেশি কার্যকর পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পাপুয়া নিউ গিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নিউজিল্যান্ড সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, চীন প্রশান্ত মহাসাগরে পারমাণবিক সক্ষমতা-সম্পন্ন একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো সতর্কবার্তা পেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পাপুয়া নিউ গিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাস্টিন টকাচেঙ্কো বলেন, হ্যাঁ, চীন আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। চীনা রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে আমাকে ফোন করেছিলেন।
নিউজিল্যান্ড সরকারের একটি সূত্রও এএফপি-কে জানিয়েছে, একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আসন্ন পরীক্ষা সম্পর্কে চীন তাদের আগেই সতর্ক করেছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথায় গিয়ে পড়বে, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট কিছু বলেনি।
এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চীনের অভিজাত ‘রকেট ফোর্স’ ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ার কাছে সমুদ্রে একটি ডামি বা নকল ওয়ারহেড (বিস্ফোরক মাথা) নিক্ষেপ করেছিল। গত ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে এটিই ছিল তাদের প্রথম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল চীনের অত্যাধুনিক ‘ডং ফেং-৩১’ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি। যা থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সমুদ্রের এমন একটি এলাকায় গিয়ে পড়েছিল, যা আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় দীর্ঘকাল ধরে ‘পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল’ হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে।
গত মাসে এএফপি-র হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, নিউজিল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের নৌ-তৎপরতা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বিষয়টি জানিয়েছিল।
এদিকে টোকিও জানিয়েছে, বেইজিংয়ে অবস্থিত জাপানি দূতাবাসকে চীনা কর্তৃপক্ষ এই পরীক্ষার বিষয়ে আগেই অবহিত করেছিল। এরপরই জাপান চীনকে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য জোরালো আহ্বান জানায়।
সরকারের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছি, যাতে এটি জাপানের আকাশসীমা অতিক্রম করার মতো কোনো ঘটনার মাধ্যমে জাপানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে আমাদের আকাশসীমা ও সামুদ্রিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও পর্যবেক্ষণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে। চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অঞ্চলটিকে ‘অস্থিতিশীল’ করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং সাংবাদিকদের বলেন, অস্ট্রেলিয়া চীনের কাছে বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। আমরা এটিকে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ বা অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে আসছি।
সূত্র: ডন, রয়টার্স।