ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ত্রিপক্ষীয় ফোন কূটনীতি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৬, | ১২:০৬:১১ |

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে এসে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে বাধ্য করতে রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানী অবকাঠামোয় উপর্যুপরি হামলা চালাচ্ছে। জবাবে রাশিয়াও ইউক্রেনে হামলা জোরদার করেছে। তারা ইউক্রেনের নতুন নতুন অঞ্চল দখলের দাবি করছে। এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির টেলিফোন যুদ্ধ বন্ধে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

৪ জুলাই আমেরিকার ২৫০ বছর পুর্তির দিনে পুতিনের সাথে ট্রাম্পের টেলিফোন আলাপ হয়েছে। ৯০ মিনিট দীর্ঘ এ টেলিফোন আলাপে ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে তার সহায়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শনিবার তা সাথে ট্রাস্পের টেলিফোন আলাপ হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত দুই নেতার সাথে ট্রাম্পের এই টেলিফোন সংলাপকে সাধারণ সৌজন্য হিসেবে মনে করা হচ্ছে না। বিশেষ করে পুতিনের সাথে ট্রাম্পের ৯০ মিনিট দীর্ঘ আলোচনা এবং তাতে যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার প্রস্তাব অনেককে আশাবাদী করছে। বিশেষ করে আগামীকাল মঙ্গলবার তুরস্কের আঙ্কারায় শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে এ ত্রিপক্ষীয় ফোন কূটনীতি ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ন্যাটো নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা অস্বস্তি থাকলেও আঙ্কারা সম্মেলনে তিনি যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুতিন ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্প এবং মার্কিন জনগণকে মার্কিন স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকীতে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চলতি বছরে এটি ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে চতুর্থ ফোনালাপ এবং কথোপকথনটি ছিল অত্যন্ত গঠনমূলক। ট্রাম্প ইউক্রেনীয় সংঘাতে যত দ্রুত সম্ভব শত্রুতা অবসানের সুবিধা করে দিতে তার প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’ 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, ’রাশিয়ান পক্ষ আবারও এই সংঘাতের একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিয়েছে।’ তবে তারা দাবি করেছে যে, ’কিয়েভ এবং তার ইউরোপীয় পৃষ্ঠপোষকরা এই সংঘাতকে দীর্ঘায়িত এবং এমনকি আরও বাড়িয়ে তুলতে চাইছে।’ মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ’আমাদের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন, যেখানে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে চলেছে।’

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, শনিবার ট্রাম্পের সাথে তারও একটি ’খুব ভালো ফোনালাপ’ হয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, ’এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর একটি বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমেরিকার সংকল্পই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছিল যে তারা ন্যাটো বাহিনী মডেলে তাদের অংশগ্রহণ সঠিক আকারে কমিয়ে আনবে। জোটটি যাতে মার্কিন বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়, সেটি মনে করিয়ে দিতেই মার্কিন এই ঘোষণা। তাই কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া আঙ্কারা সম্মেলনকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। তবে সম্মেলনের একদিন আগে পুতিন ও জেলেনস্কির সাথে যুদ্ধ বন্ধের ইস্যুতে টেলিফোন আলাপ করে ন্যাটো সম্মেলনের আলোচনার মূল ইস্যুই নিজের দিকে টেনে নিলেন ট্রাম্প। 

ইরান যুদ্ধে সহায়তা চেয়েও না পাওয়ার পর থেকে ন্যাটোর ব্যাপারে নিজের অসন্তোষ গোপন করেননি ট্রাম্প।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..