ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সাভারের উলাইল এবং হেমায়েতপুর পদ্মার মোড় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শ্রমিক ও পুলিশের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলমসহ পুলিশ ও শ্রমিক মিলিয়ে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাভার শিল্পাঞ্চলে ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সাভারের সব তৈরি পোশাক কারখানায় একদিনের ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার সকালে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকায় অবস্থিত ব্যাবিলন ও স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টসের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ মিছিলে নামেন। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও শ্রমিক আহত হন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। পরে ধাওয়া খেয়ে শ্রমিকরা আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে কাজ বন্ধের আহ্বান জানান এবং ভাঙচুরের চেষ্টা চালান। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে একেএইচ গ্রুপসহ শিল্পাঞ্চলের প্রায় সব কারখানা কর্তৃপক্ষ একে একে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে।
পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর অংশে অবস্থান নিয়ে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ফলে মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের উভয় পাশে প্রায় ৮ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিক।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত ফোর্স ও ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান নূর জানান, শ্রমিকরা ৩ দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছিল। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাইওয়ে পুলিশ ও শিল্প পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।
এ জাতীয় আরো খবর..