✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১১-০৩, | ১৩:০২:০৮ |অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন আইফোন ডুয়ের সরবরাহ সংকট কবে কাটবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ব্যাপক চাহিদার কারণে ফোনটির অর্ডার দিয়ে অনেক ক্রেতাকে আগামী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চললেও চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য ফিরতে কত সময় লাগবে, তা বলতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।
গত সোমবার অ্যাপলের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ-সংক্রান্ত এক সম্মেলনে এ কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সাবিহ খান। তিনি বলেন, আইফোন ডুয়ের উৎপাদন বাড়ানোর কাজ ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে কখন ভারসাম্য ফিরবে, তা অনুমান করা কঠিন।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে আসার পরপরই ফোনটি নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। আগাম অর্ডার দিতে না পারা অনেক ক্রেতাকে আগামী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ভেরাইজনও ফোন সরবরাহে দেরি হওয়ায় গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ হিসেবে উপহার কার্ড দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এর আগে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে আইফোন ডুয়ের চাহিদাকে ‘অসাধারণ’ বলে উল্লেখ করা হয়। বিক্রি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাপলের ওয়েবসাইটে ফোনটির মজুত শেষ হয়ে যায়। ফলে অনেক ক্রেতার কাছে ফোন পৌঁছানোর সময় আগামী বছর পর্যন্ত পিছিয়ে যায়।
অ্যাপল সাধারণত দক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থাপনার জন্য পরিচিত। এরপরও নতুন ফোনটির ক্ষেত্রে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়াকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। এর অন্যতম কারণ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণকে দেখা হচ্ছে। এআই প্রযুক্তিতে তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রের চাহিদা বাড়ায় বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের চাহিদা ও দাম বেড়েছে। এতে স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।
অ্যাপলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সাবিহ খান জানিয়েছেন, অনিচ্ছা সত্ত্বেও কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়াতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। এদিকে আইফোন ডুয়ের উৎপাদনে প্রয়োজনীয় টাইটানিয়ামের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেরিম্যানের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করছে অ্যাপল।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন টার্নাস বলেন, নতুন ফোনটি নিয়ে ক্রেতা ও পর্যালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন তাঁরা। যত দ্রুত সম্ভব ক্রেতাদের হাতে ফোন পৌঁছে দিতে কাজ করছেন তাঁরা।