✕

সর্বশেষ :
স্পেসএক্স-টেসলা একীভূতকরণে বিশেষ কমিটি গঠন গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, দুই শিশুসহ নিহত ৭ প্রযুক্তির সহায়তায় পরিবেশবিরোধী অপরাধ, ঝুঁকিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী সুদানের ড্রোন হামলায় নিহত বেড়ে ১৫৩, ঘরছাড়া ৮ হাজার মানুষ ব্যালন ডি’অর ঘিরে বায়ার্নের রহস্যময় পোস্ট, আলোচনায় কেইন চলচ্চিত্র বিভাগের প্রধানকেই ছাটাই করল নেটফ্লিক্স যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস, বিএআরসির সহকারী পরিচালক গ্রেফতার ‘এআই মন্ত্রী’ নিয়োগ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রাজনীতি : আলবেনিয়া কি ইইউ’র পরীক্ষাগার? পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান: রিপোর্ট

প্রযুক্তির সহায়তায় পরিবেশবিরোধী অপরাধ, ঝুঁকিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২১, | ১৫:৩১:১৩ |

লাতিন আমেরিকায় অবৈধ খনন, বন উজাড় ও অন্যান্য পরিবেশবিরোধী অপরাধে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট, ড্রোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে অপরাধী চক্র। এসব প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান জানিয়েছে আন্তঃআমেরিকান মানবাধিকার কমিশনের একটি বিশেষ দপ্তর।

অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত অধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকের দপ্তর- রেডেস্কা এ আহ্বান জানায়। দপ্তরটি সতর্ক করে বলেছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার বনাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে। বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভূমি, জীবিকা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

রেডেস্কার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা নেই- এমন প্রত্যন্ত এলাকায় অবৈধ খনন পরিচালনায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অপরাধী চক্র কাজের সমন্বয়, অর্থ লেনদেন ও লোকজনের চলাচল পরিচালনা করতে পারছে। ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে দপ্তরটি।

অন্যদিকে, সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধী সংগঠনগুলো অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ড্রোন ব্যবহার করছে। এসব প্রযুক্তি অপরাধীদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে লাতিন আমেরিকায় অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৬৭০টি ঘটনার নথি পাওয়া গেছে। সংস্থাটির আগস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ঘটনার ৭২ শতাংশের বেশি ঘটেছে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্টের মধ্যে। তবে এই পরিসংখ্যানের সব ঘটনা পরিবেশবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। এতে অঞ্চলটিতে সশস্ত্র ড্রোনের বিস্তার বাড়ার প্রবণতা প্রতিফলিত হয়েছে।

পরিবেশবিরোধী অপরাধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে রেডেস্কা। অবৈধ সোনার খনিতে ব্যবহৃত বিষাক্ত ধাতু পারদ বিক্রির প্রচারে টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের তথ্য তুলে ধরেছে সংস্থাটি। দপ্তরটির তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ সোনার খনিতে ব্যবহারের জন্য পারদ বিক্রির প্রচারসংবলিত টিকটকের ১০৮টি পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। পোস্টগুলো সম্মিলিতভাবে ৫৮ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। তবে কোন দেশের তদন্তে এসব পোস্ট শনাক্ত হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি দপ্তরটি।

পারদ নদী ও জলাশয় দূষিত করতে পারে। দূষিত পানির মাছের মাধ্যমে এটি স্থানীয় মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলেও প্রবেশ করতে পারে। ফলে অবৈধ খনির ক্ষতি শুধু বনভূমিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; জনস্বাস্থ্য ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ে।

তবে প্রযুক্তি কেবল অপরাধী চক্রের হাতিয়ার নয়। স্যাটেলাইট চিত্র, জিপিএস, ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা ও ড্রোন ব্যবহার করে আদিবাসী সম্প্রদায় বন উজাড়, অবৈধ খনন এবং নিজেদের ভূমিতে অনুপ্রবেশ শনাক্ত করতে পারে। এসব প্রযুক্তির সাহায্যে তারা প্রমাণ সংগ্রহ করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজন কমাতে পারে।

রেডেস্কা সরকারগুলোকে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ব্যবহারের ওপর নজরদারি জোরদার, প্রযুক্তির অবৈধ ব্যবহার তদন্ত এবং অপরাধী গোষ্ঠীর হাতে প্রযুক্তি পৌঁছানোর ঝুঁকি মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের পণ্য ও সেবা কীভাবে অপব্যবহৃত হতে পারে, তা পর্যালোচনা করতে বলেছে।

জাতিসংঘের আন্তদেশীয় সংগঠিত অপরাধবিষয়ক সম্মেলন চলাকালে এ আহ্বান জানানো হলো। ভিয়েনায় ১৯ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ সম্মেলনে অবৈধ খনন, বন উজাড় ও বন্য প্রাণী পাচারসহ পরিবেশবিরোধী অপরাধ মোকাবিলায় নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমাজন অঞ্চলের এক ডজনের বেশি আদিবাসী প্রতিনিধি অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।

রেডেস্কা আরও সতর্ক করেছে, উন্নত প্রযুক্তির উৎপাদন ও পরিচালনারও পরিবেশগত মূল্য রয়েছে। এতে বিপুল জ্বালানি ও পানির ব্যবহার, খনিজ উত্তোলন এবং ইলেকট্রনিক বর্জ্য তৈরির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সংস্থাটির মতে, প্রযুক্তির সুফল কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর অপব্যবহার ও পরিবেশগত ক্ষতি ঠেকাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..