✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২১, | ১৫:১৯:৫৪ |উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসন, হত্যাকাণ্ড বা গুপ্তহত্যার জবাব দিতে সর্বাত্মক, বহুমাত্রিক ও সমন্বিত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান। দেশটির এক ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমটিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার বিষয়ে ইরান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা বা সংযম দেখানো হবে না।
তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। আগ্রাসী শক্তি ও এ অঞ্চলে তাদের সহযোগীদের স্বার্থ এবং নাগালের মধ্যে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে পূর্ণ শক্তিতে আঘাত হানা হবে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাবে এমন পদক্ষেপ নেয়া হবে, যা পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ এবং তাদের সহযোগীদের লক্ষ্যবস্তুকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
ইরানের দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ছাড়া কোনো আক্রমণ চালাবে না, আবার ইসরায়েলও যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ করবে না। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দু’পক্ষের যেকোনো একটির এককভাবে অংশ নেয়ার ধারণাকে তিনি ‘তিক্ত কৌতুক’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমের পারস্পরিক গভীর সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্য হুমকি দেশটিকে প্রয়োজনীয় আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেয়ার আইনি ও নৈতিক ভিত্তি দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক ইস্যু কেবল একটি অজুহাত; যুক্তরাষ্ট্রের মূল বিরোধিতা ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা ও প্রতিরোধ শক্তিকে ঘিরে।
ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডাররা বারবার সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন চালানো হলে তা পুরো অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থকে আরও বড় ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি মঙ্গলবার বলেছেন, ওয়াশিংটন আস্থা তৈরির পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।
নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রেজায়ি বলেন, এ প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে ইরানের সব শর্ত পুরোপুরি পূরণ করতে হবে।
ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা নির্ভর করছে তেহরানের সাতটি শর্ত পূরণের ওপর।
মঙ্গলবার তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে গালিবাফ বলেন, ভুল হিসাব-নিকাশ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করায় যুক্তরাষ্ট্র গভীর সংকটে পড়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ওয়াশিংটনকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের স্বাক্ষরিত ১৪ দফা ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ অনুযায়ী, তেহরান পর্যায়ক্রমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। এর বিনিময়ে ওয়াশিংটনকে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর দিকে মার্চ মাসে তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পারস্য উপসাগরীয় জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।