✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২১, | ১৫:০৮:৩৮ |ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র, পিস্তলের চার রাউন্ড গুলি ও ৩০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত ২১ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সময়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে নয়জনকে আটক করে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের উত্তর বেতবাড়িয়া এলাকায় ফাহাদ ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে মাসুদ মিয়ার গ্যারেজের পেছনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে জসিম মিয়া (৩০) নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বুধল ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া পূর্বপাড়ার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি কালো রঙের ভাঁজ করা স্টিলের সুইচ গিয়ার, ১৭ দশমিক ৫ ইঞ্চি লম্বা একটি লোহার দা এবং ২০ ইঞ্চি লম্বা তিনটি লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।
একই দিন রাত ৮টার দিকে শহরের কাউতলী মোড়ে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন শহরের কলেজপাড়ার রিয়াদ মোর্শেদ (৩২) এবং নবীনগর উপজেলার কুরেঘর গ্রামের জামাল মিয়া (৩৫) ও ছগির মিয়া (৩৬)।
পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছ থেকে পিস্তলের চার রাউন্ড গুলি, ৩০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, লোহার তৈরি একটি চীনা কুড়াল, লোহার হাতলযুক্ত দুটি দা এবং কাঠের হাতলযুক্ত একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন মামলার কার্যক্রম ও অভিযানে মোট ২১ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে জিআর পরোয়ানাভুক্ত তিনজন, সিআর পরোয়ানাভুক্ত চারজন, পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় আটক পাঁচজন, নিয়মিত মামলার ছয়জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আটক তিনজন রয়েছেন।
এ ছাড়া শহরের কাজীপাড়া ও কান্দিপাড়া এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে নয়জনকে আটক করা হয়। পরে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল আলম বলেন, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।