✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৯, | ০১:৪০:৫২ |ব্রাজিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত এক নারীর প্রেমে পড়ে নিজের সব জিনিসপত্র বিক্রি করে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ৪৯ বছর বয়সী এডিমার মার্তিনস।
উদ্দেশ্য ছিল স্বপ্নের সেই নারীর সঙ্গে দেখা করা এবং নতুন করে সংসার শুরু করা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানতে পারেন, ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানিয়াও প্রদেশের বাসিন্দা মার্তিনস পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের এক নারীর অ্যাকাউন্ট দেখে তার প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি। ওই নারী ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ নামেও পরিচিত ছিলেন।
অ্যাকাউন্টটিতে তিন লাখের বেশি অনুসারী ছিল বলে জানা গেছে। সেখানে এক নারীকে খামারে শান্ত ও সুন্দর গ্রামীণ জীবনযাপন করতে দেখা যেত। তিনি পুরুষদের নিজের সঙ্গে থাকার আমন্ত্রণ জানাতেন। পাশাপাশি থাকার জায়গা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিতেন।
মায়ের মৃত্যুর পর একাকিত্বে ভুগছিলেন মার্তিনস। তার বিশ্বাস ছিল, ওই নারী তাকে নতুন করে জীবন শুরু করতে সাহায্য করবেন। একপর্যায়ে তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার আশায় তার সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, গত ৯ অক্টোবর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস প্রদেশের রাজধানী বেলো হরিজন্তে যাওয়ার খরচ জোগাতে নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করেন মার্তিনস। এরপর বাসে এক দিনেরও বেশি সময় ভ্রমণ করে ১১ অক্টোবর শহরটিতে পৌঁছান।
সেখানে গিয়ে ওই নারীর ছবি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি। পথচারীদের ছবিটি দেখিয়ে জানতে চান, তারা ওই নারীকে চেনেন কি না। কিন্তু কেউ তাকে চিনতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত একটি স্থানীয় বেতারকেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারেন, ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টটি মূলত এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছিল।
মার্তিনস বলেন, ‘এতে শুধু দুঃখ, হতাশা আর বিষণ্নতাই আসে। অনেকেই একটা সম্পর্ক চান, তাই আমিও তাকে চেয়েছিলাম।’
পরে অ্যাকাউন্টটির পেছনে থাকা ব্যক্তি স্বীকার করেন, নারী চরিত্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। তবে মার্তিনসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেন তিনি। তার দাবি, অ্যাকাউন্টটির সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সেটি বিক্রির সুযোগ তৈরি করাই ছিল উদ্দেশ্য।
এদিকে ভ্রমণের পেছনে সব টাকা খরচ করে ফেলায় বেলো হরিজন্তে আটকা পড়েন মার্তিনস। পরে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষের সহায়তা চাইলে সমাজকর্মীরা তাকে খাবার, গোসলের সুযোগ এবং বাড়ি ফেরার বাসের টিকিটসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন।
এত বড় হতাশার পরও জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি মার্তিনস। বর্তমানে পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে থাকছেন তিনি। তবে স্থায়ীভাবে সংসার করার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশায় আবারও বেলো হরিজন্তে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মার্তিনস বলেন, ‘তাঁকে খুঁজে পাইনি। তবে অন্য কাউকে খুঁজে পাব। আমি যে জায়গায় গিয়েছিলাম, সেখানেই আবার যাব।’