✕


মহাকাশে শুরু হতে পারে পরবর্তী যুদ্ধ, বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৯, | ০১:১৯:১৩ |

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মহাকাশে যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন দেশ উপগ্রহকে লক্ষ্য করে অস্ত্র তৈরি করছে। উপগ্রহে বড় হামলা হলে জিপিএস, ইন্টারনেট, ব্যাংকিংসহ জরুরি সেবা ব্যাহত হয়ে আধুনিক জীবনযাত্রা থমকে যেতে পারে।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটেন ও তার মিত্ররা এই হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিংস কলেজ লন্ডনের ফ্রিম্যান এয়ার অ্যান্ড স্পেস ইনস্টিটিউটের গবেষক জুলিয়া বাম বলেছেন, মহাকাশে মিত্রদেশগুলো প্রতিদিনই প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনে এক বৈঠকে তিনি পাঁচ বছরের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা জানান।

কক্ষপথে রাশিয়া ও চীনের কর্মকাণ্ড উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, ২০২২ সালে উৎক্ষেপিত রুশ উপগ্রহ কসমস ২৫৫৩-তে পারমাণবিক যন্ত্রের উপাদান থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।

মহাকাশে পারমাণবিক বিস্ফোরণের বিকিরণ ও উচ্চশক্তির কণা হাজার হাজার উপগ্রহ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। পৃথিবীর কক্ষপথের কিছু অংশও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।

এই সপ্তাহে একটি রুশ সামরিক উপগ্রহ ইউক্রেনকে সহায়তাকারী আইসআই এক্স৩৬ উপগ্রহের কাছে গেছে। অন্যদিকে চীন কক্ষপথে বস্তু ধরে ফেলতে সক্ষম মহাকাশযান পরীক্ষা করেছে। চীনা উপগ্রহগুলো জ্বালানি ভরা ও কাছাকাছি অবস্থানে চলাচলের সক্ষমতাও দেখিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক মহাকাশপ্রযুক্তির প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিরক্ষামুখী হচ্ছে। মহাকাশের আবর্জনা অপসারণের জন্য প্রতিষ্ঠিত অ্যাস্ট্রোস্কেল এখন গোপন সামরিক কর্মসূচিতে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটি বৈরী মহাকাশযানকে উপগ্রহের কাছে আসা বা কাজে বাধা দেওয়া থেকে ঠেকানোর উপায় খুঁজছে।

উপগ্রহে জ্বালানি সরবরাহের প্রযুক্তি নির্মাতা অরবিট ফ্যাবও ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জ্যাকব গিয়ারের মতে, উপগ্রহের চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ—দুই কাজেই ব্যবহার করা সম্ভব।

সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ উপগ্রহ রক্ষায় প্রথম মহাকাশ স্কোয়াড্রনের ঘোষণা দিয়েছে রয়্যাল এয়ারফোর্স। বিভিন্ন দেশ লেজার, তড়িৎচুম্বকীয় পালস, উপগ্রহের সেন্সর অকার্যকর করার যন্ত্র এবং মহাকাশযান আঁকড়ে ধরার সরঞ্জাম তৈরি করছে। উপগ্রহবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও পরীক্ষা করা হয়েছে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থাও প্রকল্পগুলোতে সামরিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্যবহার যুক্ত করতে শুরু করেছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..