ইমরানের পাশে এবার লারা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৬, | ১৪:০০:১৫ |

কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারা। ইমরানকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি একজন মানুষের প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ক্যারিবীয় এই সাবেক অধিনায়ক।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক অধিনায়কদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান লারা। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তানের জন্য একসময় ‘আশার প্রতীক’ হয়ে ওঠা ইমরান খান কেন এখন উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। লারা বলেন, ইমরানের সঙ্গে খেলোয়াড়ি জীবনে কয়েকবার তার দেখা হয়েছে। তবে সেই সময় থেকেই পাকিস্তানের কিংবদন্তি অধিনায়কের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইমরান খান ও আমার মাঠে কয়েকবারই দেখা হয়েছে, তবে তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা তখন থেকেই এবং সেটা দীর্ঘস্থায়ী। আমি বুঝতে পারছি না, খেলোয়াড়ি জীবনের সেরা সময়ে যিনি নিজের দেশের জন্য আশা, গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক ছিলেন, সেই তিনি এখন কীভাবে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন যেখানে তাকে যথাযথ যত্ন নেওয়া হচ্ছে না এবং প্রাপ্য সহানুভূতি ও মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না।

লারা বলেন, আমার সাবেক অধিনায়ক সতীর্থদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি এবং আহ্বান জানাচ্ছি, তাকে যেন যথাযথ ও স্বাধীন চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় ও একজন মানুষের প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়। এটা রাজনীতি নয়। আমাদের খেলার একজন কিংবদন্তির প্রতি এটা ন্যূনতম মানবিকতা।

২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ইমরান খান। এরপর ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন তিনি। দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাকে। তবে ইমরান ও তার দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কারাগারে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে গত মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দেন ২১ জন সাবেক অধিনায়ক। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউ জিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়কেরা ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও একই দাবিতে পাকিস্তান সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক। তবে ওই চিঠির কোনো জবাব সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। পরে একই দাবিতে নতুন করে চিঠি দেওয়া হয়।

ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে আইনি লড়াইও হয়েছে। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে রাজধানী ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ভর্তি করানোর নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তাকে সরকারি হাসপাতাল পিআইএমএসে নেওয়া হয়। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

কারাগারে ইমরানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং তাকে পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ অবশ্য প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান সরকার। গত মাসে এক বিবৃতিতে সরকার দাবি করে, ২০২৩ সালের আগস্টে ইমরান বন্দী হওয়ার পর থেকে তার পরিবারের সদস্য, আইনজীবী ও চিকিৎসকেরা ৯০০ বারের বেশি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

ক্রিকেটার হিসেবে ইমরান খান পাকিস্তানের অন্যতম সফল ও পরিচিত মুখ। দেশের হয়ে তিনি ৮৮টি টেস্ট ও ১৭৫টি ওয়ানডে খেলেছেন। তবে অধিনায়ক হিসেবে তার সবচেয়ে বড় অর্জন আসে ১৯৯২ সালে। তার নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে পাকিস্তান। দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বকালের সেরা অধিনায়কদের তালিকায় ইমরানের অবস্থান তাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..