টোকিওর রাস্তায় বিশ্বের প্রথম ‘সুশি বাস’

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৬, | ০০:৫০:৩৪ |
চলন্ত বাসে বসে শহরের রূপ দেখছেন, আর চোখের সামনে দিয়ে রিভলভিং বেল্টে ঘুরে যাচ্ছে তাজা সুশি! পর্যটকদের জন্য এক ঢিলে দুই পাখি মারার এমন অভিনব আর বিচিত্র সুযোগ শুধু জাপানেই সম্ভব। টোকিওর রাস্তায় নামছে বিশ্বের প্রথম কনভেয়র-বেল্ট সুশি বাস, যেখানে ঘুরে ঘুরে দর্শনীয় স্থান দেখার পাশাপাশি পেটপুরে সুশি খাওয়ার সুবিধা থাকছে।

‘সুশি বাস কোং’ ও রেস্তোরাঁ বাস ভাড়াদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘উইলার অ্যাক্রস’-এর যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া সার্ভিসটি দেবে দারুণ সব অভিজ্ঞতা। দোতলা খোলা বাসের (ওপেন-টপ ডাবল ডেক) দ্বিতীয় তলায় যাত্রীরা বসবেন। তাদের আসন ঘেঁষে ঘুরতে থাকবে কনভেয়র বেল্ট, তা থেকেই পছন্দমতো খাবার তুলে নিয়ে খেতে খেতে টোকিওর রূপ উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা।

টোকিও স্টেশনের কাছে কাজিবাশি পার্কিং লট থেকে ছেড়ে যাওয়া এ বাসের কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য নেই। বাসের ভেতরের কনভেয়র বেল্টের মতোই শহর ঘুরে এটি আবার আগের জায়গায় ফিরবে। ৭০ মিনিটের এ ‘অল-ইউ-ক্যান-ইট’ ট্যুরে দেখা মিলবে টোকিওর সেরা সব স্থান। রুটটি এখনো পুরোপুরি ঠিক না হলেও শিবুয়া স্ক্র্যাম্বল ক্রসিং, গিনজা ও আসাকুসার কামিনারিমন গেটের মতো বিখ্যাত পয়েন্টগুলো এতে থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

বাসটির চমৎকার কারিগরি বিন্যাসও বেশ নজরকাড়া। ডাবল ডেকার এ বাসের প্রথম তলায় রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ রান্নাঘর, যেখানে দক্ষ শেফরা তৈরি করবেন বিভিন্ন পদের তাজা সুশি। নিচতলার সেই কিচেন থেকে বিশেষ একটি লিফটের মাধ্যমে খাবার তুলে আনা হবে দ্বিতীয় তলায়। আর সেখানে থাকা কর্মীরা সুশির প্লেটগুলো বসিয়ে দেবেন যাত্রীদের আসনের পাশে চলা কনভেয়র বেল্টে।

বাসে আসনের সংখ্যা রাখা হয়েছে মাত্র ২০টি। অর্থাৎ, এক ট্রিপে মাত্র ২০ জন যাত্রীই এমন অনন্য অভিজ্ঞতার সুযোগ পাবেন।

নিরামিষভোজী, অ্যালার্জি আক্রান্ত বা নির্দিষ্ট ধর্মীয় খাদ্যাভ্যাসের যাত্রীদের কথা মাথায় রেখেও খাবার সরবরাহের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এতে।

টোকিওতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাসটির চলাচল শুরু হচ্ছে আগামী ১০ অক্টোবর। বেলা ১১টা, বেলা ১টা, বেলা ৩টা, বিকাল ৫টা ও সন্ধ্যা ৭টায় প্রতিদিন মোট পাঁচটি ট্রিপ ছাড়বে বাসটি। অনলাইনে টিকিট বুক করে এ বিলাসবহুল ট্যুরে অংশ নিতে জনপ্রতি গুনতে হবে ১৬ হাজার ইয়েন। শুরুতে কেবল টোকিওতে চললেও পরবর্তী সময়ে ওসাকা ও কিওটোর মতো জাপানের অন্যান্য জনপ্রিয় পর্যটন শহরেও সার্ভিসটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

খবর: জাপান টুডে

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..