✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-৩০, | ১৪:৩৪:২৮ |১৯৯০ এর দশকের তুলনায় বর্তমানে টেস্ট ম্যাচগুলো অনেক দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। নব্বইয়ের দশকে প্রায় ৭ শতাংশ টেস্ট ম্যাচ তিন দিন বা তার কম সময়ে শেষ হতো, কিন্তু বর্তমানে সেই হার বেড়ে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দুই দিনে টেস্ট ম্যাচ শেষ হওয়ার বিষয়টি এক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
গত এক দশকে এমন ঘটনা ঘটেছে নয়বার। অথচ ১৯৪৬ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে দুই দিনে শেষ হওয়া টেস্ট ম্যাচের সংখ্যা ছিল শূন্য। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল আথারটন লর্ডসে ইংল্যান্ড এবং পাকিস্তানের মধ্যেকার তৃতীয় টেস্ট চলাকালীন এই পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরেছেন।
আথারটন টেস্ট ক্রিকেটের গতি বেড়ে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন। সাবেক এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার বলেন,আমি এবং নাসের হুসেন নব্বইয়ের দশকে খেলেছি। তখন তিন দিন বা তার কম সময়ে শেষ হওয়া ম্যাচের হার ছিল কম। এখন যদি কারণ জানতে চান সেটা অবশ্যই বিতর্কের বিষয়।
টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের ওপর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের প্রভাব ম্যাচ দ্রুত শেষ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল আথারটন। তিনি বলেন, সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত খেলোয়াড়রা টেস্ট ক্রিকেটেও সেই মানসিকতা বজায় রাখেন, অথচ টেস্টে ঝুঁকি ও প্রাপ্তির হিসাবটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। অ্যাথারটন মনে করেন, এই মানসিকতার পরিবর্তনই ব্যাটসম্যানদের দ্রুত আউট হওয়া এবং ম্যাচের গতি বেড়ে যাওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, টি-টোয়েন্টির কারণে এখন ব্যাটিংয়ে ঝুঁকি অনেক বেশি। আর ঝুঁকি বেশি নিলে আউট হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে, ফলে খেলা দ্রুত এগিয়ে যায়। বর্তমানে বেশ কয়েকজন ভালো মানের ফাস্ট বোলারও রয়েছেন। আমার মনে হয়, ডিআরএস-এরও একটা প্রভাব রয়েছে। প্রথমত, ডিআরএস নিশ্চিতভাবে দেখিয়ে দেয় কখন ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন। ফলে আম্পায়ারদের পক্ষে এলবিডব্লিউ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা এখন অনেক সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফাস্ট বোলিংয়ের মানের কারণেও টেস্ট ম্যাচ দ্রুত শেষ হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলেও মনে করেন আথারটন। তিনি বলেন, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর পর থেকে পিচগুলো আরও বেশি সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। দলগুলো সাধারণত নিজেদের মাঠে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করে। এটি ভারতের স্পিন-সহায়ক পিচই হোক কিংবা ইংল্যান্ডের সিম-মুভমেন্ট বা সুইং-সহায়ক পিচ। সামগ্রিকভাবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর পর থেকে পিচগুলো বোলারদের জন্য আরও বেশি অনুকূল হয়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।