✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-৩০, | ১৪:২১:৪৯ |কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি এখন নিজেই যেন অসুস্থ। জরাজীর্ণ ভবন, ছাদে বড় বড় ফাটল, ভাঙা দরজা-জানালা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ আর চারপাশের ঝোপঝাড় দেখে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হবে, এটি কোনো পরিত্যক্ত বাড়ি। স্থানীয়দের ভাষায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন যেন ভূতের বাড়ি।
আজ রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল রয়েছে। ছাদ ও দেয়াল দিয়ে পানি পড়ছে। বৃষ্টির পানি জমে ভবনের আশপাশে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। চারদিকে গজিয়ে উঠেছে বন-জঙ্গল। এসব গর্তে বিষাক্ত সাপের বিচরণ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। ভাঙা দরজা-জানালা ও অন্ধকার পরিবেশের কারণে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ওষুধও পাওয়া যায় না এখানে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার থাকলেও তিনি সপ্তাহে মাত্র দুই দিন এখানে আসেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি ওই এলাকায় ব্যবসা করছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০ বছর ধরেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের নিজেরই চিকিৎসা দরকার। ভবনের ভেতরে পানি পড়ে, বিদ্যুৎ নেই। এমন অবস্থায় রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসতেও ভয় পান।
চিকিৎসা নিতে আসা জান্নাত বেগম বলেন, অসুস্থ হয়ে তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছেন। কিন্তু ভবনের অবস্থা দেখে আতঙ্কিত। কখন ভবনটি ভেঙে মাথার ওপর পড়ে, সেই ভয় রয়েছে। দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়াকুব বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সেবা দিতে তিনিও ভয় পাচ্ছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারপাশে অনেক গর্ত রয়েছে, সেখানে সাপ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। চারদিকে বন-জঙ্গল থাকায় মশার উপদ্রবও বেশি। এতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরতরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
তিনি জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে রোগীদের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। তবে এখানে মূলত আয়রন ট্যাবলেট ও শিশুদের কনট্রাসেপটিভ ডিভাইস রয়েছে।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে পাশেই থাকা একটি বহুতল আশ্রয়কেন্দ্রের দুটি কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হলে সেখানে অস্থায়ীভাবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালানো সম্ভব।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি তিনি অবগত এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনর্নির্মাণের জন্য তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই পুনর্নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে।
স্থানীয়দের দাবি, নতুন ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত রোগীদের নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হোক।