✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-৩০, | ০০:৫২:০২ |বিশ্ব বিনোদন দুনিয়ায় এখন এক নতুন ঝড়ের নাম আগনেজ মো। প্রাইম ভিডিওর জনপ্রিয় অ্যাকশন সিরিজ ‘রিচার’-এর চতুর্থ মৌসুমে লিলার চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি আন্তর্জাতিক দর্শকের নজর কেড়েছেন এই ইন্দোনেশীয় তারকা। গত ১২ আগস্ট মুক্তি পাওয়া এই নতুন মৌসুমের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা, যা তাঁর বর্ণিল ক্যারিয়ারে যুক্ত করেছে এক অভাবনীয় অধ্যায়।
ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতি ও বিনোদনজগতে আগনেজ মো পরিচিতির নাম। বিগত তিন দশক ধরে গান, অভিনয়, নাচ আর টেলিভিশন উপস্থাপনার সুবাদে তিনি দেশটির অবিসংবাদিত সুপারস্টার হিসেবে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছেন। অথচ আন্তর্জাতিক দর্শকদের বড় একটি অংশের কাছে তিনি একেবারে নতুন এক আবিষ্কার, যিনি হলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী ফ্র্যাঞ্চাইজিতে নিজের জাত চেনাতে শুরু করেছেন।
১৯৮৬ সালের পহেলা জুলাই জাকার্তায় জন্ম নেওয়া এই তারকার পথচলা শুরু হয়েছিল মাত্র ছয় বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে। নব্বইয়ের দশকে অ্যালবাম প্রকাশ ও ছোটদের অনুষ্ঠান উপস্থাপনার পর ২০০১ সালের টেলিভিশন ড্রামা ‘পেরনিকাহান দিনি’-তে তাঁর যুগান্তকারী অভিনয় তাঁকে কিশোর প্রজন্মের হৃদয়ে চিরতরে আসন করে দেয়। সেই সাফল্যের রেশ ধরে তাইওয়ানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাট্যপ্রযোজনাতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন তিনি।
অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে সংগীতের বিশাল সাম্রাজ্যেও রাজত্ব করেছেন আগনেজ। ২০০৩ সালে প্রাপ্তবয়স্ক পপ তারকা হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর একের পর এক হিট অ্যালবাম এবং মার্কিন র্যাপার টি আই, টিম্বাল্যান্ড ও ক্রিস ব্রাউনের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে কোলাবরেশন তাঁকে বিশ্ব সংগীতাঙ্গনের চূড়ায় নিয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিন কোটির বেশি অনুসারী এবং ২০১৯ সালে আইহার্ট রেডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসের সোশ্যাল স্টার খেতাব তাঁর আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তারই প্রমাণ দেয়।
প্রায় দীর্ঘ পনেরো বছর অভিনয় জগৎ থেকে দূরে থাকার পর ‘রিচার’-এর মাধ্যমে রূপালি পর্দায় এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটে আগনেজের। তবে এই বড় সুযোগটি তিনি কোনো তারকাখ্যাতির জোরে পাননি, বরং নিজের নাম বা সংগীত পরিচিতিকে দূরে সরিয়ে রেখে সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে রিহার্সাল ও কঠিন অডিশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চরিত্রটি অর্জন করেছেন। অডিশন থেকে শুরু করে কলব্যাক ও কেমিস্ট্রি টেস্ট—প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে লিলার চরিত্রটি পাওয়া ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন ও রোমাঞ্চকর এক লড়াই।
‘রিচার’-এর এই নতুন মৌসুমে আগনেজের অভিনীত চরিত্র লিলা হথ এক গভীর ও রহস্যময় সত্তা। ফিলাডেলফিয়ায় লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত মায়ের সঙ্গে এসে নিজের জৈবিক পিতার সন্ধানে নামা এই তরুণীর জীবন জড়িয়ে পড়ে জ্যাক রিচারের রোমাঞ্চকর তদন্তের জালে। ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত ফরাসি গায়িকা আংগুনের সঙ্গে তাঁর এই স্ক্রিন শেয়ারিং এবং চরিত্রের একমাত্রিক না হওয়া দর্শকদের মাঝে এক অন্যরকম মনস্তাত্ত্বিক কৌতূহল তৈরি করেছে।
আগনেজের কাছে অভিনয় ও সংগীত কোনো আলাদা সত্তা নয়, বরং এগুলো একই সূত্রে গাঁথা গল্প বলার শক্তিশালী মাধ্যম। তাঁর বিশ্বাস, অভিনয়ের মাধ্যমেই মানুষের আবেগ ও মনস্তত্ত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার ক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব, যা তাঁকে একজন আরও পরিপক্ব গীতিকার ও শিল্পী হতে সাহায্য করেছে। এই নিখাদ আবেগের সততা এবং গল্পের প্রতি অগাধ ভালোবাসাই তাঁকে দীর্ঘ বিরতির পরও ক্যামেরার সামনে অতটা সাবলীল রাখতে পেরেছে।
‘রিচার’-এর চতুর্থ মৌসুমের এই বিশাল সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক আঙিনায় আগনেজের পথচলা আরও বেশি গতিশীল হয়ে উঠেছে। আইএমডিবির ট্রেন্ডিং তারকার তালিকায় নিজের নাম তোলার পাশাপাশি ‘গ্রোভ টেলস’-এর মতো বড় প্রকল্প এবং মার্ভেলের ‘এক্স-মেন’-এর সাইলক চরিত্রে অভিনয়ের সুপ্ত ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর এই স্বপ্নের দৌড় কেবল শুরু মাত্র। বিশ্বমঞ্চে নিজের শিল্পসত্তার এক অবিস্মরণীয় বিপ্লব ঘটাতে প্রস্তুত এই ইন্দোনেশীয় ডিভা।